গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪৫
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা এবং ভূখণ্ডটির অন্য এলাকাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) ও গাজার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খুব কাছাকাছি অবস্থানে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের তুমুল লড়াই হয়েছে।
বাসিন্দারা জানান, ইসরায়েলিরা সম্ভবত তাদের রাফা দখল সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছে, ট্যাংকগুলো শহরের পশ্চিম ও উত্তর পাশের অংশগুলোর আরো গভীরে প্রবেশ করছে। এরইমধ্যে তারা শহরটির পূর্ব, দক্ষিণ ও কেন্দ্রস্থল দখল করে নিয়েছে।
গাজার কর্মকর্তা ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেছেন, গাজার আটটি ঐতিহাসিক শরণার্থী শিবিরের একটি আল-শাতি। এই শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আল-তুফাহ এলাকার বাড়িঘরে হামলায় আরো ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দু’টি ট্যাংক একটি পাহাড়ের উপর উঠে মাওয়াসির দিকে মুখ করে গোলা ছুড়তে শুরু করে, সেগুলো ওই এলাকায় আশ্রয় নেয়া দরিদ্র উদ্বাস্তু লোকজনের তাঁবুতে আঘাত হানে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) যুদ্ধবিমান গাজা শহরে হামাসের দুটি সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী।
এদিকে হামাস বলেছে, উপত্যকায় বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে হামলার জন্য দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ও তাদের নাৎসি নেতাদের মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বহু দশক ধরে সাধারণ ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো নির্যাতন, গণহত্যা, ভূমি দখল, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের প্রতিবাদে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালায় স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এতে অন্তত এক হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত হয়। একই সঙ্গে আরো ২০০ জনের বেশি লোককে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করে তারা। ওই দিনই গাজায় পুরোমাত্রার যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ৮ মাসের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩৭ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় আহত হয়েছেন আরো হাজার হাজার মানুষ। ইসরায়েলের অব্যাহত বোমা হামলায় উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।