ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

নতুন হুমকিতে যুক্তরাজ্য ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৪, ৫ অক্টোবর ২০২৬
নতুন হুমকিতে যুক্তরাজ্য ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান
যুক্তরাজ্যে মোতায়েন করা সব দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমান নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংগৃহীত ছবি

অজ্ঞাত নতুন হুমকির পর যুক্তরাজ্যে মোতায়েন করা সব দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকির কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ঘটনাটিকে ‘বাস্তব হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

Advertisement

সাধারণত নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বোমারু বিমানগুলোকে ওই অঞ্চলের অন্য কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। তবে এবার সেগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে এর আগে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এসব বিমান ব্যবহৃত হয়েছে। ঘাঁটিটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিং লোকেশন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মার্কিন বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে কথিত একটি ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছর এবং তারা লন্ডন এলাকার বাসিন্দা। পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে তারা তদন্তের আওতায় রয়েছেন।

পাঁচজনকে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতেন না।

এরপর গত বৃহস্পতিবার কথিত ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, তদন্ত এখনো চলমান।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছিলেন, কথিত ষড়যন্ত্রে কোনো বিদেশি পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান ঘটনাটিতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি নিয়ে চলমান তদন্ত এবং নতুন হুমকির পর মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাজ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!