সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।
গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনে ওই ভিডিও ফেসবুক থেকে সরানোর আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
.png)
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী নারী (৩৭)।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে সংঘটিত ওই ঘটনায় রোববার (৪ অক্টোবর) বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা করেন ওই নারী। একটি মামলা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে, অন্যটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। দুই মামলাতেই নয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারের ওই নারী অভিযোগ করেছেন, আসামিরা তার স্বামীকে বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তারা এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। গত এক মাস ধরে তারা এই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তিনি এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা ফেসবুকে ভিডিওটি ছেড়ে দেয়।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানিয়েছেন, ১৮ বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় কয়েক বছর আগে তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন। তার এক ছেলে ও মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ওই নারী বাড়িতে ছেলে ও এক ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি তার স্বামী তার কাছে আসা-যাওয়া করতে শুরু করেন। এ নিয়ে কয়েকজন যুবক আপত্তি জানিয়ে ওই নারীকে নির্যাতন করেন। ঘটনার দিন ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। নির্যাতনকারীরা তার স্বামীকেও আটক করে নিয়ে যায়। পরে ওই নারীর ভাই ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই নারীর মা নেই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তারা বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। নির্যাতনের শিকার নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এছাড়া, ওই ঘটনায় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।