দুই মামলায় ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
রাজধানীর মতিঝিল ও গাজীপুরের গাছা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় দুই বাদী আলোচিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো।
বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
দুই সাক্ষী হলেন- মতিঝিল থানার মামলার বাদী সৈয়দ আদনান ও গাজীপুর জেলার গাছা থানার মামলার বাদী র্যাব-১ এর নায়েব সুবেদার আব্দুল খালেক।
.png)
এদিন সাক্ষ্য গ্রহণের আগে কারাগার থেকে মাদানীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে তাদের জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। এরপর দুই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ জুন দিন ধার্য করেন আদালত। মতিঝিল থানার মামলায় মামলার মাহমুদুল হাসান ওরফে মুর্তজা নামে আরেকজন আসামি রয়েছেন।
রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল সৈয়দ আদনান শান্ত নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় রফিকুল ইসলাম মাদানীসহ পাঁচজনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর রফিকুল ইসলামকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে র্যাব।
২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় ৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এ মামলায় অন্য তিন আসামির ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেফতার করতে না পারায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। তারা হলেন, মোহাম্মদ আমজাদ, মো. তাওহীদ ইসলাম ও এইচ এম লোকমান হোসেন। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলার অপর আসামি হলেন- মাহমুদুল হাসান ওরফে মুর্তজা।
অপরদিকে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রফিকুলের বিরুদ্ধে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন র্যাব -১ এর নায়েব সুবেদার আব্দুল খালেক। ২০২১ সালের ৩০ জুন মাদানীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন র্যাব-১ এর সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হক। মামলায় সাক্ষী করা হয় ১৯ জনকে।
২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রফিকুল ইসলাম মাদানী ইউটিউব এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। দেশের সাধারণ মানুষ এসব বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছে। বিভ্রান্ত হয়ে তারা দেশের সম্পত্তির ক্ষতি করছে।