ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

ব্রয়লার মুরগিতে স্বস্তি, সবজির দামে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:৫০, ৬ জুলাই ২০২৪
ব্রয়লার মুরগিতে স্বস্তি, সবজির দামে আগুন
ফাইল ফটো

অবশেষে ব্রয়লার মুরগির দাম ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কোরবানি ঈদের পরই বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই থেকে কমে এভাবেই চলছি। এখন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই মুরগি। অপরদিকে বাজারে সব ধরনের সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে পণ্যের দাম বাড়াতে বিক্রেতাদের অজুহাতের তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে কয়েকদিন ধরে চলা বৃষ্টি। বাজারে এখন ৬০ টাকার নিচে সবজি নেই বললেই চলে। কিছু সবজির দাম তিন অংকের ঘরও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মশলা জাতীয় পণ্যেও হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। প্রতিদিনের রান্নায় দরকারি পণ্য পেঁয়াজের কেজি ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেও মানভেদে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

Advertisement

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দীন বলেন, সবজির একটা বড় অংশ আসে উত্তরাঞ্চল থেকে। এখন সেদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। সেজন্য পাইকারি দাম বেশি। তাই খুচরায়ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টমেটো ১২০-১৩০, করলা ৮০, বরবটি ১১০, কাকরোল ৮০-১০০, পটল ও ঢেঁড়স ৬০-৭০, ধুন্দল ও চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, কাঁচা পেপে ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০-৯০ টাকা, লতি ১০০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৬০-১২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

লেবুর হালি ১০ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতার কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, মুলা শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এখনো কমেনি আলুর দাম। হঠাৎ করে গত সপ্তাহে আলুর কেজি বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এ সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হওয়া এই সবজির দাম বাড়ার পেছনে কোনো অজুহাত দেখাতে পারেননি বিক্রেতারা।

বিক্রেতাদের বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ানোকে অজুহাত বলছেন ক্রেতারা। সবজি আর মশলার দাম নিয়েও হতাশা জানিয়েছেন তারা।

মিরপুর ১১ নম্বরের কাঁচা বাজারে সবজি কিনতে আসা রেহেনা বেগম বলেন, বাজার হয়ে গেছে মগের মুল্লুক। বিক্রেতারা যাই বলুক, গতকাল আমি যে সবজি কিনলাম ৫০ টাকায় সেটা এক রাতের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। এটা মেনে নেয়ার মতো না। সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একই বাজারে সবজি কিনতে এসেছিলেন আবুল হোসেন। তিনি বলেন, আলুর মতো একটা জিনিসের কেজি ৬৫ টাকা। টমেটো ১৪০ টাকা চাচ্ছে। অথচ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে উৎপাদনকারীরা হয়তো বিক্রি করেছেন ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতারা যখন যেভাবে পারে, দাম বাড়ায়। নিয়ন্ত্রণ করার তো কেউ নেই।

কথা হয় ক্রেতা দিনমজুর জামিলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে ঢুকলে মেজাজ ঠিক থাকে না। মনে হয় যার যেইভাবে ভালো লাগে, সেইভাবেই দাম চায়। দিন আর চলে না, কোনোরকমে বাঁইচা আছি।

এছাড়া সোনালি মুরগি ২৭০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি হাইব্রিড ২৯০, দেশি মুরগি ৬০০, লেয়ার (লাল) ৩৪০ এবং লেয়ার (সাদা) ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬৫০-৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংসের কেজি এক হাজার ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে বাড়া ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮৫ টাকায়।

মাছের দামও মোটামুটি স্থির রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ১০০০ টাকা, ৮০০ থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শিং মাছের কেজি (আকৃতিভেদে) ৪০০-৬৫০ টাকা, রুই (আকৃতিভেদে) ২৮০-৩৫০ টাকা, মাগুর ৯০০-১০০০, মৃগেল ২৮০- ৩৭০, পাঙ্গাশ ১৯০-২২০, চিংড়ি (আকৃতেভেদে) ৬৫০-৮৫০, বোয়াল ৫০০-৯০০, কাতল ৪০০-৬০০, পোয়া ৪৫০-৪৫০, পাবদা ৪০০-৫০০, তেলাপিয়া ২২০, কই ২২০-২৪০, মলা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাতাসি টেংরা ১০০০, টেংরা ৬০০-৮০০, কাঁচকি ৫০০-৬০০, পাঁচমিশালি ২২০, রূপচাঁদা ১২০০, বাইম ১২০০-১৫০০, কই মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!