ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর জানায়, ব্যবহৃত বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওষুধটি ঝুঁকিমুক্ত ও মানসম্মত ছিল। বেক্সিমকোর তিনটি ব্যাচের দুটি করে ছয়টিসহ অভিযুক্ত দোকান থেকে সংগৃহীত আরো দুটি সিরাপের মান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ওষুধের গুণগতমান সঠিক ছিল।
সোমবার বিকেলে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে আয়োজিত ‘নাপা সিরাপে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ’ প্রসঙ্গে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ।
.png)
তিনি বলেন, দোকান থেকে আটটি বোতল সংগ্রহ করা হয়। সবগুলোতেই ফল পজিটিভ এসেছে। এসব সিরাপে ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি।
এর আগে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে নাপা সিরাপের নমুনা নিয়ে গত রোববার ঢাকায় ফেরেন তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. আকিব হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঔষুধ প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঔষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মুখপাত্র ও পরিচালক আইয়ুব হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ঔষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে দুটি প্রতিনিধিদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পাঠানো হয়েছিল। তাদের তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) যেকোনো সময়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাপা সিরাপ খেয়ে মৃত্যুর মূল কারণ, তখনই হয়তো জানা যাবে।
তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে সারাদেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ঔষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা পাঠিয়েছি। সারাদেশেই নির্দিষ্ট ঐ ব্যাচের নাপা সিরাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আশা করছি ঘটনার মূল কারণ খুব শিগগিরই বেরিয়ে আসবে।
এর আগে, গতকাল শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত ঔষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশুর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. আকিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি আসলে রহস্যজনক বিষয়।
গত ১০ মার্চ রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে ‘নাপা সিরাপ খেয়ে’ ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খান (৫) নামে দুই সহোদর শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। মৃত দুই শিশু দুর্গাপুর গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ইসমাঈল হোসেন খানের ছেলে।