ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ইজতেমার ময়দান থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৩৪, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪
ইজতেমার ময়দান থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে
ফাইল ফটো

রাজধানী ঢাকার গাজীপুরে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষের ঘটনায় মাঠ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সরকার। মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের কেউই মাঠে প্রবেশ করতে পারবে না। ইসলামের স্বার্থে কোনো পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বুধবার তাবলিগের দুই পক্ষের হতাহতের ঘটনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার গভীররাতে মাঠ দখল নিয়ে মাওলানা সাদ ও জুবায়েরপন্থী অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।

Advertisement

এ বিষয়ে শুরায়ে নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, রাতের আঁধারে সাদপন্থীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শুরায়ে নেজামের তাবলিগের সাথীদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এতে শাতাধিক আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে। তারা মাঠ দখলে নিয়ে নেয়। শুরায়ে নেজামের সাথীরা আহত অবস্থায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর তাই কিছু সাথী বিশ্ব ইজতেমার মাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।

নিহতের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সাদপন্থীদের হামলায় আমাদের তিন সাথী ইন্তেকাল করেছেন।

এদিকে সাদপন্থীদের মিডিয়া সমন্বয়ক মুহাম্মদ সায়েম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের বেলাল হোসেন নামের এক সাথীর ইন্তেকাল করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীরা বাইর থেকে হঠাৎ হামলা চালায় বলে দাবি করে জুবায়েরপন্থীরা। এতে শতাধিক আহতের ঘটনা ঘটে।

হতাহতদের ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিহতরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার এগারসিন্দু গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৭০) ও ঢাকার দক্ষিণখানের বেড়াইদ এলাকার বেলাল (৬০) ও বেলাল হোসেন (৫৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৩টার দিকে সাদপন্থীরা তুরাগ নদীর পশ্চিম তীর থেকে কামারপাড়া ব্রিজসহ বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করতে থাকে। এ সময় মাঠের ভেতর থেকে যোবায়ের পন্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে সাদপন্থীরাও পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে সাদপন্থীরা মাঠে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে রাতে দুজন ঘটনাস্থলে ও বুধবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসকন্দার হাবিব।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দুজন নিহতের তথ্য পেয়েছি। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রশাসন।

টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র ব্রাদার হাফিজুল ইসলাম জানান, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে দুপক্ষের সংঘর্ষে হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয়। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!