ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ প্রবাস জীবন ]

মালয়েশিয়ায় চরম সংকটে ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৬, ২৭ জুন ২০২৬
মালয়েশিয়ায় চরম সংকটে ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক
ছবি সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। ‘অ্যারোফোম’ নামের একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বেতন পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া না পাওয়ায় এই অভিবাসী শ্রমিকরা খাবার কেনা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া আদায় ও ন্যায়বিচারের আশায় তারা দেশটির শ্রম বিভাগের শরণাপন্ন হয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং শ্রম বিভাগে এই শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। শুনানির আগেই ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে দেশটির বিশিষ্ট আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার দায়িত্ব দেন।

Advertisement

শুনানির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করা হলেও নিয়োগকর্তা পক্ষ জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা নতুন করে মধ্যস্থতার তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানায়। তবে শ্রমিকদের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে বলেন, বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সরাসরি শুনানির মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়। এই দীর্ঘসূত্রতায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের ভাষ্য— টানা চার মাস ধরে বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পর বকেয়া পেতে আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কারও কাছে খাবার কেনার টাকা নেই, আবার কেউ বাসাভাড়া দিতে না পেরে উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। কষ্টার্জিত ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তাদের প্রবাস জীবন এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে।

শুনানিতে আইনজীবী লতিফা কোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের যেন কোনোভাবেই দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) করা না হয়। কারণ আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

শুনানি শেষে শ্রমিক ও তাদের সমর্থকরা শ্রম বিভাগ (জেটিকে) কার্যালয়ের বাইরে একটি শান্তিপূর্ণ সংহতি সমাবেশ করেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষার দাবি জানান।

পরবর্তীতে শ্রমিকদের আবাসস্থলে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শ্রমিকরা তাদের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং মামলা চলাকালে নিয়োগকর্তার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা অভিবাসন ঝুঁকি থেকে আইনি সুরক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়ানো সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিরা জানান, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া। সংশ্লিষ্টদের মতে, চার মাস ধরে উপার্জনের একমাত্র উৎস বন্ধ থাকার পরও যদি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে এমন দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকে, তবে এটি শুধু শ্রম অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং বড় ধরনের মানবাধিকারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!