ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ফারুক ওয়াসিফকে হটাও’ ‘পিআইবি বাঁচাও, প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফারুক ওয়াসিফকে হটাও’ ‘পিআইবি বাঁচাও, প্রেসক্লাবে মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি

‘পিআইবি বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফকে হটাও’ স্লোগানে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

Advertisement

সিনিয়র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব তালুকদার, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সজীব তালুকদার, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক নীলিমা, সাংবাদিক জোটের সভাপতি ইকবাল হোসেন সরদার, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম যুবরাজসহ অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৮ মাসে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত নিয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করে দ্রুত তাকে অপসারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

বক্তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পিআইবির মহাপরিচালক পদে যোগদানের পর ফারুক ওয়াসিফ বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপপরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার ও সিনিয়র প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে রাখা হয়েছে। গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা, প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলমকে শোকজ করে চাকরিচ্যুতির চেষ্টা এবং এমএলএসএস মো. মাহবুব আলমকে সাময়িক বরখাস্তের মতো ঘটনাও তুলে ধরেন তারা।

তাদের দাবি, বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপরও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ তালিকায় কামরুন নাহার, মো. নিজাম উদ্দিন, মিজানুর রহমান সরকার, আবদুল্লাহ আল মামুন, মাহবুবুল আলম, আবদুল জব্বার, ইসলাম সিকদার, শাহ মো. গোলাম রহমান মজনু, মো. সোহেল, তাজুল ইসলাম, মাহফুজ ইসলাম ও আমিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন বক্তারা।

এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত এ কে এম ফরিদ উদ্দিন পাওনা-দেনা চাইতে গেলে তাকে পিআইবি কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা’ এবং ‘গণআন্দোলনের দিশা ও দর্শন’সহ বিভিন্ন কর্মসূচির নামে একই দিনে একাধিক কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

বক্তাদের ভাষ্য, সদ্য সমাপ্ত সরকারি অডিটে ফারুক ওয়াসিফের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে ১৭টি অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব আপত্তির মধ্যে আর্থিক অনিয়ম, অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের বোনাস প্রদান, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ নামে ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নগদে বিল পরিশোধ এবং এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় পিআইবির অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চ বেতনে অস্থায়ীভাবে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে বসানো এবং তাকে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলেন বক্তারা। তাদের দাবি, একজন অস্থায়ী কর্মকর্তা সরকারি অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ফারুক ওয়াসিফের পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে একটি ভীতিকর কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা পিআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!