ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ এখন ট্রেন্ডিং ]

বাংলাদেশে ‘ব্রাহামা গরু’ নিষিদ্ধ কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৬, ৪ জুলাই ২০২৪
বাংলাদেশে ‘ব্রাহামা গরু’ নিষিদ্ধ কেন?
ছবি: সংগৃহীত

বংশ মর্যাদাসম্পন্ন গরুর বিজ্ঞাপনে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে সাদিক অ্যাগ্রো। ঐ বিজ্ঞাপনে নজর কাড়ে বিশাল আকারের ব্রাহামা গরু। জানা যায়, কয়েক বছর আগে জালিয়াতি করে এ জাতের গরু আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

উচ্চবংশীয় গরু ও দেশের সর্বোচ্চ দামের ছাগলকে জড়িয়ে আলোচনায় আসা সাদিক অ্যাগ্রোর ফার্মে থাকা নিষিদ্ধ ‘ব্রাহমা প্রজাতি’র ১৩টি গরুর সন্ধান পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন পরিস্থিতিতে আবার আলোচনায় আসলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাহমা প্রজাতির গরু। 

২০১৬ সালের এক নীতিমালায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্রাহামা জাতের গরু আমদানি নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত। তবে আমদানি নিষিদ্ধ হলেও এ জাতের গরু বাংলাদেশে উৎপাদন ও পালন একেবারেই বৈধ। তবে ঠিক কী কারণে ব্রাহামা গরু বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ তা তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা। 

Advertisement

বাংলাদেশে মাংসের চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে ব্রাহামা গরুর চাহিদাও। বলা হয়, এ জাতের গরু পালন সহজ ও লাভজনক, আর অন্যান্য জাতের চেয়ে ব্রাহামা গরু রোগ বালাইয়ে কম আক্রান্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ব্রাহামা জাতের গরু রয়েছে তার প্রায় সবই কৃত্রিম পদ্ধতিতে প্রজনন করা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, ব্রাহামা গরু মূলত মাংসের জাত বলে পরিচিত। এ গরু প্রচুর মাংস উৎপাদন করলেও তারা তার আকৃতি অনুযায়ী অনেক দুধ দেয় না। ফলে খামারিরা যদি ব্যাপক হারে ব্রাহামা উৎপাদন করে তাহলে দেশে গরুর দুধের উৎপাদন একেবারেই কমে যাবে। মূলত সেই জন্যই বেসরকারি পর্যায়ে ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাহামা গরুর মাংসের স্বাদ দেশি গরুর মতো। এর গায়ে চর্বি কম হয়, যে কারণে পুষ্টিগুণ বেশি। সরকারের আশঙ্কা ব্যাপক হারে ব্রাহামা গরু উৎপাদন হলে দুধ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে খামারিরা। মূলত দেশের দুগ্ধ উৎপাদন খাতের সুরক্ষায় ব্রাহামা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গরুর এ প্রজাতিটির উৎপত্তি ভারতে হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আরো দু-তিনটি জাতের সংমিশ্রণে ব্রাহমা গরুকে উন্নত করা হয়। এ জাতের গরু লালনপালন করা হয় মূলত মাংসের জন্য। এ জাতের গরু উচ্চ তাপমাত্রায় ভালো থাকে এরা, রোগবালাই কম, বাড়েও দ্রুত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!