ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ এখন ট্রেন্ডিং ]

থানায় এসে সেই তরুণী বললেন ‘আমি মরিনি, বেঁচে আছি’

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৪৩, ২৯ আগস্ট ২০২৬
থানায় এসে সেই তরুণী বললেন ‘আমি মরিনি, বেঁচে আছি’
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে দুই যুবকের মাঝে মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় বসে থাকা এক তরুণীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। থানায় এসে ওই তরুণী দাবি করেছেন, পারিবারিক চাপের কারণে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি একটি বারে গিয়ে নিজেই মদ পান করেছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ওই তরুণী।

তরুণী জানান, পারিবারিক চাপ সামলাতে না পেরে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে জসীমউদ্দীনের একটি বারে গিয়ে মদ পান করেন। এতে তিনি মাতাল হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ জোর করে মদ খাওয়ায়নি। আমি নিজেই মদ খেয়েছি। পরে অসুস্থ হয়ে যাই। আমার চাচাকে ফোন দিলে তিনি এসে আমাকে নিয়ে যান। গাড়িতে ওঠা পর্যন্ত আমার জ্ঞান ছিল। এরপর আর আমার জ্ঞান ছিল না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও কথা বলেন ওই তরুণী। তার দাবি, সাবেক স্বামী তার মৃত্যুর তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই তিনি থানায় এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মরিনি। আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই আমি থানায় এসে সবাইকে জানাতে চেয়েছি যে আমি বেঁচে আছি।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজহার ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া ওই তরুণী শনিবার থানায় এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, বোনের সঙ্গে রাগ করে তিনি একটি বারে যান। সেখানে মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

এসআই আজহার ইসলাম বলেন, পরে তাকে তার বোনের বাসায় না নিয়ে এক বন্ধুর বাসায় নেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে জানতে পেরে নিজের অবস্থান জানাতেই তিনি থানায় এসেছেন।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে ওই তরুণীকে বসা অবস্থায় দেখা যায়। ওই সময় তাকে অনেকটা অচেতন বা নিস্তেজ মনে হচ্ছিল।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মাদ্রাসাতুল মাদীনা-বগুড়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মনোয়ার হোসেন মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করেন। পরে তিনি ঘটনার কয়েকটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তরুণীর পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও গুজব তৈরি হয়।

তবে থানায় এসে ওই তরুণীর বক্তব্যের পর তার মৃত্যুর খবর যে সঠিক নয়, তা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ওই রাতে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি এবং পরে স্বজন ও পরিচিতজনেরা তাকে নিয়ে যান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!