ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ এখন ট্রেন্ডিং ]

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার চেষ্টা, অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:৩৬, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার চেষ্টা, অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর নারীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের গৌরনদীতে রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক নারীর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

লিজা উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার ওরফে রব রাজের মেয়ে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সন্ধ্যার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো পোশাক-পরিচ্ছদ ও চুলের ধরন পছন্দ করতেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে আসতেন এবং কখনো কখনো দীর্ঘ সময় সেখানে থাকতেন।

Advertisement

জেনিফা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা একে অপরের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। স্তন অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর মা, বাবা ও বোন টাকা দেন। ওই অর্থে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের একটি হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়।

জেনিফার দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। লিজার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই তিনি ওই স্বাক্ষর করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন এবং তাঁর স্বাক্ষরে অস্ত্রোপচার হবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজার নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি ওই দিন জানতে পারেন।

আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘লিজা অস্ত্রোপচার করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে এমনটা ওর মায়ের কাছে শুনেছি।’

লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। তাঁকে দুবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। ছেলেদের সঙ্গে সংসার করার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ কারণে লিজার অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তাঁরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এদিকে হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদ অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মৃত্যু সনদে দেওয়া হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকসহ কেউই ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে অস্ত্রোপচারের পর লিজার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী, চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না বা এ ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!