মেসওয়াক বা ব্রাশ করার দ্বারা রক্ত বের হলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে?
উত্তর : ইসলামে পবিত্রতার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। হজরত আবু মালেক আল আশআ’রী (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। (মুসলিম শরিফ, হাদিস-২২৩)। তাই সব মুসলমানের উচিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব দেয়া; বিশেষ করে এই করোনাকালে মুখের পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মুখের অপরিচ্ছন্নতার সুযোগেই করোনা সংক্রমণ হয়।
.png)
রোজাদারের ফজিলতের ব্যাপারে হাদিস শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তায়ালার নিকট মেশকের সুগন্ধির চেয়েও প্রিয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৬৩৮)।
অনেকে এ হাদিসের ব্যাখ্যা এভাবে করে থাকেন যে, যেহেতু আল্লাহ তায়ালার নিকট রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ মেশকের চেয়েও প্রিয়, তাই রোজা রেখে মিসওয়াক করা যাবে না। এতে মুখের দুর্গন্ধ চলে যাবে, যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তবে গ্রহণযোগ্য মতে সর্বাবস্থায় মেসওয়াক করা সুন্নাত। চাই সেটা রোজা রেখে হোক বা রোজার বাইরে ছাড়া। মেসওয়াক না করার কারণে মুখে যে দুর্গন্ধ হয় সেটা আল্লাহর নিকট প্রিয় নয়। কেননা সে দুর্গন্ধ অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয়, যা থেকে বাঁচা সর্বাবস্থায় জরুরি। (দরসে তিরমিজি, খনণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৫৬৯)।
রোজা রেখে কাঁচা ডাল দ্বারা মেসওয়াক করার বিধান :
হাদিসে মেসওয়াক করা সুন্নত সাব্যস্ত করা হয়েছে ব্যাপকভাবে। রোজা রাখা বা না রাখার সঙ্গে এটাকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। অনুরূপভাবে মেসওয়াক কাঁচা হবে নাকি শুকনো হবে সেটাও নির্ধারণ করা হয়নি। তাই রোজা রেখে কাঁচা ডাল দ্বারা মেসওয়াক করতে কোনো অসুবিধা নেই। (উমদাতুল কারী, খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৯৪)।
হাদিশ শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আমি অসংখ্য বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা রেখে মেসওয়াক করতে দেখেছি। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস-৭২৫)।
ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেন, এই হাদিসের ওপর আমল করতে গিয়ে উলামায়ে কেরাম রোজাদারের জন্য মেসওয়াক করাকে দোষণীয় মনে করেন না। তবে কেউ কেউ রোজাদারের জন্য কাঁচা ডাল দ্বারা মেসওয়াক করাকে এবং দিনের শেষে মেসওয়াক করাকে মাকরুহ মনে করেন। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস-৭২৫)।
এ ব্যপারে ফতোয়ায়ে উসমানীতে বলা হয়েছে, রোজা রেখে মেসওয়াক করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে মেসওয়াক চিবানো থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকবে। সবচেয়ে ভালো হবে যদি মেসওয়াক আগে থেকেই বানিয়ে রাখা হয়। আর চাবানোর দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। যতক্ষন না রক্ত গলার ভেতর প্রবেশ করে। (ফতোয়ায়ে উসমানী, খণ্ড-২য়, পৃষ্ঠা-১৯০)।
মেসওয়াক করতে গিয়ে যদি মেসওয়াকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গলার ভেতর চলে যায় এবং চেষ্টা করেও তা বের করা না যায় তাহলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড-৪ পৃষ্ঠা- ৪৩৫)।
মেসওয়াক করার কারণে দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে :
‘আপকে মাসায়েলে’ কিতাবে বলা হয়েছে, দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে যদি রক্ত বের হয়ে গলার ভেতর প্রবেশ করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫৮৪)।
এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মেসওয়াক করার কারণে দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রক্ত গলার ভেতর প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
রোজা রেখে টুথপেস্ট বা মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা :
রোজা রেখে টুথপেস্ট বা মাজন ইত্যাদির দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা মাকরুহ। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪২৮, আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৪২৯, আপকে মাসায়েল, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫৮৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড-২য়, পৃষ্টা-১৪১)।