ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

বৃহস্পতিবারের আমল ও এর প্রতিদান

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৭, ৬ অক্টোবর ২০২২
বৃহস্পতিবারের আমল ও এর প্রতিদান
মসজিদে নববী ও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা ছবি: সংগৃহীত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন দুটি এমন, যে দিন দুটিতে বান্দার আমলসমূহ মহান আল্লাহর সামনে হাজির করা হয়। আর আমি রোজা থাকা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর সামনে পেশ করা হোক- এটাই আমি পছন্দ করি।’ (মুসলিম)

হযরত আকরামা ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি বৃহস্পতিবার জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকআত নামায এভাবে আদায় করে যে, প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহার পর আয়াতুল কুরসি ১০০ বার এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস ১০০ বার পাঠ করে, নামায শেষ করার পর ১০০ বার দরূদ শরিফ পাঠ করে, তবে সে রজব, শাবান ও রমজান মাসে রোজা রাখার সমতুল্য সওয়াব লাভ করবে এবং হাজিদের মতো পুণ্যবান হবে এবং আল্লাহর উপর ভরসাকারীদের মতো পুণ্য লাভে সমর্থ হবে।

হযরত আবু হোরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকআত নামায এভাবে আদায় করে যে, সূরা ফাতিহার পর আয়াতুল কুরসি পাঁচবার, সুরা ইখলাস পাঁচবার, সূরা ফালাক পাঁচবার এবং সূরা নাস পাঁচবার পাঠ করে এবং নামায আদায়ের পর ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ১৫ বার পাঠ করে ইহার সওয়াব মাতাপিতার রূহের উপর বখশিয়ে দেয়, তাহলে সে পূর্ণভাবে মাতাপিতার হক আদায় করল এবং আল্লাহর পিয়ারা বান্দা সিদ্দীক ও শহীদগণের সমতুল্য মর্যাদা লাভ করতে সমর্থ হল।

Advertisement

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার এবং বৃহস্পতিবারের রোজার অপেক্ষা করতেন। (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, নাসাঈ)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামকে তার থেকে ১০০ বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন। (আস সিলসিলাতুস সহিহাহ: খণ্ড-৬, হাদিস নম্বর: ২৫৬৫)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোজা এবং কোরআন কেয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা আল্লাহ তায়ালাকে বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে আহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত রেখেছিলাম সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল কর। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে রেখেছিলাম, এজন্য তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল কর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। (আহমদ: খণ্ড-২, হাদিস নম্বর: ১৭৪)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় জান্নাতের রাইয়ান নামের একটি দরজা আছে, কেয়ামতের দিন সেখান দিয়ে রোজাদারা প্রবেশ করবে। (বুখারি: হাদিস নম্বর: ১৮৯৬, মুসলিম: হাদদি নম্বর: ১১৫২)

রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও সোমবার রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!