দেড় ঘণ্টার ভূমিকম্পে নড়বড়ে মঙ্গলগ্রহ
লালগ্রহ মঙ্গলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পৃথিবীতে এমন ভূমিকম্প কয়েক মিনিট স্থায়ী হলে প্রাণহানি হতে পারে লাখো মানুষের। পৃথিবী ও চাঁদের বাইরে মঙ্গলেই এখন পর্যন্ত ভূমিকম্প শনাক্ত করা গেল।
শনিবার মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মনুষ্যবিহীন মহাকাশ যান ইনসাইটে এ তথ্য ধরা পড়ে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইনসাইট মঙ্গলে পৌঁছানোর পর থেকেই মূলত এমন একটি ভূমিকম্প দেখার অপেক্ষায় ছিলেন নাসা।
ইনসাইটের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.২। তার আগে ইনসাইট সবচেয়ে বড় যে ভূমিকম্প পেয়েছিল সেটা ছিল ২০১৯ সালে ৩.৭ মাত্রার। এবারের ভূমিকম্প আগের চেয়ে চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ছিল।
.png)
ইনসাইট মঙ্গলে নামার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭০০ ভূমিকম্পের খবর দিয়েছে। আর এ থেকেই এরইমধ্যে গ্রহটি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন তারা যেমন ধারণা করেছিলেন মঙ্গলের পৃষ্ঠ আসলে তার চেয়ে বেশি পাতলা। আর এর সাথে পৃথিবীর ভূ-ত্বকের যতটা মিল আছে তার চেয়ে বেশি চাঁদের উপরিভাগের সাথে মিল রয়েছে।
নাসা এর আগে বলেছে, ভূকম্পনের মাত্রা পরিমাপের মাধ্যমে তারা মঙ্গলের ভূগর্ভে পাথরের সজ্জা নির্ণয়ের চেষ্টা করবেন। এরপর প্রাপ্ত তথ্য পৃথিবীর একই ধরনের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করা হবে। ৪৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর জন্ম কীভাবে হয়েছিল, তা জানারও চেষ্টা করা হবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা মঙ্গলের ভূমিকম্প বা ‘মার্সকোয়াক’ শনাক্ত করতে ২০১৮ সালে ইনসাইট নামে একটি নভোযান পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডারবার্গ বিমানঘাঁটি থেকে নভোযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ৬ এপ্রিল ২০১৯ এই নভোযানটি প্রথমবারের মত মঙ্গল গ্রহে ভূমিকম্প শনাক্ত করে।