ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সোশ্যাল মিডিয়ায় ]

সাত বছর ছেলে শিকলবন্দি গ্যারেজে, কেন এমনটা করলেন বাবা-মা?

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৯, ১৫ আগস্ট ২০২০
সাত বছর ছেলে শিকলবন্দি গ্যারেজে, কেন এমনটা করলেন বাবা-মা?
ছবি: আহমদ আমিনু

দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মা তাকে আটকে রাখে নিজ বাড়ির গ্যারেজে। ঠিক মতো খাবার না পাওয়ায় ৩০ বছরের ওই ব্যক্তি একেবারেই কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছেন। তিনি নাইজেরিয়ার বাসিন্দা। সম্প্রতি তাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, একজন নাইজেরিয়ান ব্যক্তিকে উত্তরের শহর কানো শহরে তার বাবা-মার বাড়ির গ্যারেজ থেকে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তাকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, তিন বছর নয় বরং সাত বছর ধরে নাকি তিনি আটকে রয়েছেন।

পুলিশের অভিযানে আহমদ আমিনু নামক ৩০ বছরের ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয় নিজ বাসার গ্যারেজ থেকে। জানা গেছে, প্রতিবেশীরা একটি স্থানীয় এনজিওকে আমিনুর দুর্দশার বিষয়ে জানায়। অতঃপর এনজিও কর্তৃক পুলিশকে জানায়। আমিনুর বাবা এবং সৎ মাকে পুলিশরা ততক্ষণাৎ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে এই বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে।

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আমিনুকে উদ্ধার করার ভিডিও রীতিমত ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন শিকলে বন্দি থাকা আমিনুর ঠিকমতো হাঁটতেও পারছে না এখন। তার শরীর বলতে শুধু কঙ্কাল। মানুষরূপী জীবন্ত এক কঙ্কাল হয়ে গিয়েছে আমিনুর। উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।  

হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক এনজিওর প্রধান হারুনা আয়াগি বিবিসিকে বলেছেন, আমরা আমিনুকে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পেয়েছিলাম। তাকে কোনো খাবার দেয়া হত না। এমনকি সেখানেই শিকলে বন্দি অবস্থায় আমিনুর মল-মূত্র ত্যাগ করত। এই পরিস্থিতিতে থাকলে সে যেকোনো সময়ই মারা যেত।   

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সেবনের অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে তার বাবা-মা তাকে আটকে রেখেছিল। তাকে ভালো করার চেষ্টাতেই নাকি এভাবে তাকে রাখা হয়েছিল বলে জানায় তার বাবা-মা। এলাকাবাসীর অনেকের মতে, তিন বছর নয় আমিনুর এভাবে সাত বছর ধরে আটকে ছিলেন। এর আগেও নাকি পুলিশ আমিনুরকে গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করেছিল। এরপর এবার নাকি দ্বিতীয়বারের মতো তাকে আবারো বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হলো। 

গত বুধবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম কেবি রাজ্যে পুলিশ একটি ১০ বছরের ছেলেকে পশুর খামার থেকে বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে। যেখানে তার বাবা-মা তাকে দুই বছর ধরে রেখেছিলেন। উত্তর নাইজেরিয়ার মানুষেরা অত্যন্ত মাদকপ্রবণ। এ কারণে কিছু অভিভাবকরা তাদের শিশুদেরকে মাদকাসক্ত থেকে মুক্তি দিতে বেসরকারি ধর্মীয় পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রেরণ করে থাকেন। তবে সেসব স্থানেও রোগীদের উপর চলে অমানুষিক অত্যাচার। 

২০১৩ সালে বিবিসির একটি তদন্তে কানোর একটি রাজ্য কেন্দ্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি উদ্ঘাটিত হয়েছিল। দেখা যায় সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত রোগীদের শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছিল। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি দিতেই নাকি এই পন্থা অবলম্বন করেন অনেকে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!