ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সোশ্যাল মিডিয়ায় ]

বাসা ভাড়া নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সব নিয়ে উধাও

ডেস্ক নিউজ 
প্রকাশিত: ২১:৫৫, ১৫ আগস্ট ২০২০
বাসা ভাড়া নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সব নিয়ে উধাও
টু-লেট সাঁটানো বিজ্ঞাপন।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে সাত লাখ ৬৪ হাজার ৮৫৬ মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে তিন হাজার ৬২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ভয়াবহ মহামারিতেও থেমে নেই প্রতারণা। ভাড়াটিয়া সেজে ভাড়া নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বাসা থেকে লক্ষাধিক টাকার পণ্য নিয়ে উধাও হয়েছে এক প্রতারক।

গত শনিবার রাজধানীতে এমন ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চাঁদপুরের রবিন জানান, ১০ বছর ধরে ঢাকায় থাকা অবস্থায় কখনো এমন ঘটনার স্বীকার হননি।

ঘটনা সম্পর্কে রবিন জানান, নিচতলার মাঝারি সাইজের একটি বাসায় মেস করে থাকেন তিনি। পাশের দুই কক্ষের একটি ফাঁকা, অন্য রুমে থাকেন মাত্র এক জন। খালি কক্ষের শিক্ষার্থীরা করোনার কারণে বাড়িতে চলে গেছে। দুই মাস ধরে বাসাটি খালি। মেসে একাই ছিলেন তিনি। তাই টু-লেট সাঁটান।

Advertisement

৮ আগস্ট হঠাৎ মোবাইলে সুমন পরিচয় দিয়ে এক জন কথা বলেন। হুট করে বাসা ছাড়ায় নতুন বাসায় উঠতে চান সুমন। রবিনের কাছ থেকে ফোনে বিস্তারিত জেনে নিজেই বাসা দেখতে আসেন সুমন। রবিনের কাছে আপাতত ৫০০ জমা দিয়ে বাসায় উঠতে চান সুমন। দুই একদিনের মধ্যে বাকি টাকা দেয়ার প্রত্যাশাও দেন সুমন। 

রবিন জানান, মেসে লোক সংকটের কথা ভেবে সুমনের শর্তে রাজি হন তিনি। ওই দিনের রাত ১০ টায় একটি মাঝারি আকারের ব্যাগসহ রবিনের বাসায় উঠেন সুমন।

পরিচিতি পর্ব শেষে রাতে আড্ডা, আলোচনার পর সুমনের কাছ থেকে তার ভোটার আইডি কার্ড, বাসা ভাড়ার ফরমসহ বেশ কিছু কাগজ পূরণের কথা জানান রবিন। পরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর পর সকালে উঠে আরো কিছু সময় চলে আলোচনা, খোশগল্প।

রবিনকে সুমন জানান, নওগাঁর একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। টার্গেট পূরণ না করায় ঢাকায় তাকে স্থানাস্তর করা হয়েছে। তাই দ্রুত বাসায় উঠার প্রয়োজন হয়েছে।

৯ আগস্ট জোহরের নামাজের আগে রবিনের সঙ্গে সুমনের শেষ কথা হয়। সুমন মেসের পরিচালক রবিনকে জানান, ১০ আগস্ট ররিনকে তার মেস ভাড়ার বাকি টাকা পরিশোধ করবেন সুমন। একইসঙ্গে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও নিয়ে আসবেন। ওই দিন সুমনকে কক্ষে রেখে মসজিদে যান রবিন। এরপর ১২-১৫ মিনিটের মাথায় নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফেরেন রবিন।

রবিন আরো জানান, মসজিদ থেকে ফিরে এসে দরজার বাইরে ছিটকিনি লাগানো দেখেন তিনি। দরজা খুলে ঢুকেই রবিন হতবাক হয়ে যান। কারণ তার ড্রয়ার ভেঙে মোবাইল, মানিব্যাগ, ল্যাপটপসহ দামি জিনিস লুট করা হয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি সুমনের। করোনার এই দুঃসময়ে জিনিসপত্র হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রবিনও।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!