চেলসির বিপক্ষে সেমিফাইনাল হারের পর হ্যাজার্ডের সাবেক সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-তামাশা করাটা সহজভাবে নিতে পারেনি রিয়াল সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মাদ্রিদভিত্তিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় হাজার সমালোচনা।
সেই মাত্রা এতই বাড়ল যে আসছে গ্রীষ্মের দলবদলে হ্যাজার্ডকে বিক্রি করে দেয়ার কথাবার্তাও জোরেশোরে উঠে গেল। অবস্থা বেগতিক দেখেই নিজ ক্লাবের সমর্থকদের রাগ কমাতে এগিয়ে এলেন খোদ তিনি।
.png)
বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে হ্যাজার্ড লিখেছেন, ‘আমি দুঃখিত। আজ আমাকে নিয়ে অনেক মতামত পড়েছি। রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তদের খেপিয়ে দেয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না আমার।’
যখন চেলসিতে ছিলেন, তখন থেকেই রিয়াল মাদ্রিদে আসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন হ্যাজার্ড। রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদানকে তো ‘আইডল’ মেনে বড় হয়েছেন তিনি। ফলে জিদান যখন কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো রিয়ালে এলেন, প্রিয় ক্লাবের ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেননি।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এ ব্যাপারটাও তুলে ধরেছেন এই বেলজিয়ান উইঙ্গার। তিনি লিখেছেন, ‘রিয়ালে খেলা আমার আজীবন স্বপ্ন ছিল। আমি এখানে জেতার জন্য এসেছি। মৌসুম এখনো শেষ হয়নি, আমাদের এখন একসঙ্গে লিগ জয়ের জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। আলা মাদ্রিদ!’
অবশ্য রিয়াল যে হ্যাজার্ডকে চেয়েছিল, সে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি। একের পর এক চোটে খুব ক্মই ঠিকভাবে খেলতে পেরেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে লিগে আর চার ম্যাচ বাকি। এর ভেতর মাত্র ১১টি ম্যাচে দেখা গেছে তাকে। মৌসুমে গোল করেছেন দুটি। সতীর্থদের দিয়ে কিছু করাতে পারেননি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন সবমিলিয়ে পাঁচ ম্যাচ। তাতে এক গোল। এর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দৌড়াদৌড়ি করেই কাটাতে হয়েছে তাকে। কাজের কাজ করেননি কিছুই। রিয়ালের জার্সিতে এখন পর্যন্ত হ্যাজার্ডের ক্যারিয়ার ৪০ ম্যাচ ও ২৩৮৯ মিনিটের। তাতে তার অবদান ১১টি গোলে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অভাব পূরণে যে খেলোয়াড়কে আনা হয়েছিল, তার কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স অবশ্যই প্রত্যাশিত নয়।
এসবের পরও রিয়াল সমর্থকরা হ্যাজার্ডকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। খেলোয়াড়রা খারাপ খেললে রিয়াল সমর্থকরা দুয়ো দিতেও পিছপা হয় না। হ্যাজার্ডের কপালে তেমন ‘ব্যবহার’ এখনো জোটেনি। কিন্তু মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ হারের পর তার এমন হাসি-তামাশা করাটা মেনে নিতে পারেননি কোনো রিয়াল-ভক্ত।