রেয়মন্ড র্যাম্বার্ড। প্যারিসের একটি পত্রিকার ফিচার লেখক। সে একটা এসাইনমেন্ট নিয়ে ওরান শহরে এসেছিল। শহরকে কোয়ারেন্টাইনে স্থাপন করা হলে সে চেষ্টা করে যেকোন মূল্যেই হোক না কেন শহর থেকে চলে গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে। কিন্তু পারেনি। তবে প্লেগের কারণে র্যাম্বার্ট অস্থিরচিত্তের একজন সাংবাদিক হতে দায়িত্ববান একজন মানুষে রূপান্তরিত হয়েছিল। নিজ থেকেই ওরানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডাক্তার রিও’কে সহযোগিতা করার জন্যে। ব্যক্তিগত সুখের ওপরে নৈতিক দায়িত্বকে স্থাপন করেছিল।
নীচে আমার করা অনুবাদ থেকে উদ্ধৃত অংশে ফরাসি সাংবাদিক র্যাম্বার্টের জীবনদর্শন ফুটে উঠেছেঃ
‘“হঠাৎ রিও খেয়াল করল যে র্যাম্বার্ট তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
“তুমি তো জানো ডাক্তার যে, আমি তোমার অভিযাত্রা নিয়ে অনেক ভেবেছি। এরপরেও তোমার সাথে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে আমার কিছু যুক্তি আছে। তবে আমি কখনই ভাবি না যে, নিজের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে আমি ভয় পাই। আমি স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারেও অংশ নিয়েছিলাম,” র্যাম্বার্ট বলল।
“কোন পক্ষে?” ত্যারু জিজ্ঞেস করল।
“পরাজিতদের পক্ষে।তারপর থেকেই আমি বিষয়টা নিয়ে ভাবতে শুরু করি।“
“কী বিষয় নিয়ে?”
“সাহস। আমি জানি যে, মানুষের খুব বড় কাজ করার সামর্থ্য আছে, তবে সেই মানুষের যদি আবেগ না থাকে,আমার কাছে তার কোনো মূল্য নেই।”
“প্রত্যেক মানুষই ভাবে যে, সে সবকিছুই করতে সক্ষম,” ত্যারু মন্তব্য করল।
“আমি মানি না। মানুষ দীর্ঘসময় ধরে কষ্ট সহ্য করতে বা সুখী থাকতে পারে না। এর অর্থ হলো সে আসলে সত্যিকারের ভালো কিছু করতে পারে না।”
তারপর সে তাদের দিকে এক এক করে তাকাল এবং জিজ্ঞেস করলঃ
“ত্যারু, তুমি কি ভালোবাসার জন্যে মরতে পারবে?”
“আমি জানি না। তবে আমার বর্তমান অবস্থার ওপরে ভিত্তি করে বলতে পারি যে, সম্ভবত না।”
“অথচ দ্যাখো, তুমি একটা ধারণার (আইডিয়া) জন্যে মরতে সক্ষম, যা তুমি নিজ চোখেই তা দেখতে পাচ্ছ। আমি অনেক মানুষকে আইডিয়ার জন্যে মরতে দেখেছি। কিন্তু আমি হিরোইজমে বিশ্বাস করি না। আমি জানি এটা একটা সহজ ব্যাপার এবং শিখেছি যে, এটা হত্যা করতেও সক্ষম। তবে বেঁচে থাকা ও ভালোবাসার মানুষের জন্যে মৃত্যুবরণ করা আমাকে উৎসাহিত করে থাকে।”’
.png)
প্লেগ বইটি পাওয়া যাচ্ছে মেলার ঘাসফুল প্রকাশনীতে। স্টল নম্বর ১৪৭-১৪৮।