পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পান মনির। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনিরকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান আল আমিন নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা কমলাপুর স্টেশনগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মনির হোসেন কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী।
.png)
এ বিষয়ে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় জানানো হয়েছে।
এর আগে ২৪ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্ধ্যায় ডিম বিক্রি করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান শেহের আলী। তার রয়েছে তিন সন্তান। এক মেয়ে ও দুই ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে মেহেদী হাসান এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ছোট ছেলে জায়েদ হাসান এবার এসএসসি পাস করেছে।
জাহেদ হাসান বলেন, আব্বা বাসস্ট্যান্ডে ডিম বিক্রি করেই আমাদের সংসার চালাতেন। মাঝেমধ্যে রাতে মাছ ধরতে যেতেন। গতকাল মাছ ধরতে গেছিল। আমাদের দুই ভাইকে পড়তে বলতো সব সময়। টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা না করতে বলতো। বলতো তোরা ভালো করে পড়।
শেহের আলীর প্রতিবেশী তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই ছেলেকে পড়ালেখা করানো, আর সংসার খরচ চালিয়ে বাড়ি করতে পারেনি শেহের আলী। কোনো রকমে থাকত। ঐ ছিল পরিবারটার এক মাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এখন পরিবারটা অনেকটাই চাপে পড়ে গেল। ছেলে দুইটা এখনো উপার্জন করা শেখেনি।