শুক্রবার (২৩ জুন) পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও ধুপখোলা মাঠ সংলগ্ন পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হাটে প্রচার-প্রচারণা চলছে পুরোদমে। গেট সাজানো হয়েছে নানা রঙে। টাঙানো হয়েছে ব্যানার। পশু বেঁধে রাখতে বাঁশের খুঁটি মাটিতে পোঁতার কাজ এখনো চলছে। পশু ব্যবসায়ীদের বিশ্রামের জন্য আলাদা জায়গাও প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যদিকে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।
ধোলাইখাল হাটে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। কোরবানির পশুর দামও ভালো বলে জানান ব্যবসায়ী ও খামারিরা। তাই পশু কিনতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্য চলছে দর কষাকষি।
.png)

পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ থেকে ধোলাইখাল ও মুরগিটোলা থেকে সূত্রাপুর পর্যন্ত এ হাট বিস্তৃতি লাভ করেছে। এতে কিছুটা যানজটও সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখায় বিঘ্ন হচ্ছে যান চলাচল। অথচ শর্ত অনুযায়ী রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাটে পশু তোলার কথা আগামী রোববার থেকে। তবে ভালো জায়গায় অবস্থান পেতে আগেভাগেই হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য, যানচলাচল নির্বিঘ্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ধোলাইখাল ও পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, দুই-তিন দিন আগেই সড়কের দুই পাশে খুঁটি বসানো শেষ করেন ইজারাদাররা। তবে হাসিলের জায়গাসহ ওয়াচ টাওয়ারের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও হাটের জায়গা ছাপিয়ে পাড়া-মহল্লার গলিতে খামারিরা গরু রেখেছেন। বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের বালুর মাঠ থেকে শুরু করে মিলব্যারাক সেতু পর্যন্ত হাটের পরিধি ছড়িয়েছে। এর মধ্যে আশপাশের পাড়া-মহল্লার গলিতেও খুঁটি বসিয়েছেন ইজারাদাররা। আর বালুর মাঠের পাশের ঘাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক গরুভর্তি ট্রলার এসে ভিড়ছে।
পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুহাটের ইজারাদার আব্দুল কাদের বলেন, পশুর হাটের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। খামারিরা ভালো জায়গার জন্য আগেভাগেই চলে এসেছেন। আগামী রোববার ও সোমবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতার জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং বুথ, জাল টাকা শনাক্তের বুথসহ নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ধোলাইখাল হাটে পশু কিনতে আসা মাজেদুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রতি বছর খামার থেকে গরু কিনে থাকি। খামার থেকে গরু কিনলে সুবিধা রয়েছে। ঈদ পর্যন্ত গরু খামারে রাখা যায়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে এ বছর হাটে কিনতে এসেছি। এবার গরুর দামটা একটু বেশি।
নাসির উদ্দিন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, কোরবানি করার জন্য মাঝারি গরু খুঁজছি। এ বছর গরুপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাম বেশি মনে হচ্ছে। কোরবানি করতে হবে। এজন্য বেশি দাম হলেও গরু কিনতে হবে।
উল্লেখ্য, এ বছর রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১৯টি স্থানে বসছে পশুর হাট। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) রয়েছে ১০টি এবং দক্ষিণে (ডিএসসিসি) ৯টি পশুর হাট।