ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ করোনাভাইরাস ]

খুলনায় ছড়িয়ে পড়ছে করোনা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৯, ২৪ জানুয়ারি ২০২২
খুলনায় ছড়িয়ে পড়ছে করোনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনায় হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। করোনার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ রুখতে হাসপাতালগুলোতে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

করোনা ছড়িয়ে পড়লেও অনেকে স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনীহা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাস্ক পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মাস্ক পড়ার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও এখনও বেশির ভাগ লোকেরই মুখে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেকের মুখে নয় থুতনিতে রয়েছে মাস্ক। মাস্ক ব্যতীত অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি মানতেও রয়েছে মতো পার্থক্য।

Advertisement

করোনার তৃতীয় ঢেউ ওমিক্রনে খুলনা বিভাগে আক্রান্তের হার ক্রমান্বয়ে বাড়লেও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে। খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা ওয়াডে চলছে সাধারণ রোগী চিকিৎসা। অযত্ন অবহেলায় ধুলার রাজ্যে পড়ে আছে বেডগুলো। শেখ আবু নাসের হাসপাতালটির দেখভালের দায়িত্বরতদের দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ মেডিকেল অফিসার পদের তীব্র সংকট। সেই ক্ষেত্রে হঠাৎ ওমক্রিনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা ব্যহ্নত হওয়ার শংকা বিশেষায়িত এই হাসপাতালটিতে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট খুলনা জেনারেল হাসপাতালের চারতলা ভবনটিতে ৮০ শয্যা নিয়ে শুরু হয়েছিলো করোনা রোগীদের চিকিৎসা। করোনা সংক্রমন হ্রাস পাবার পর সেখানে পূর্বের ন্যায় শুরু হয়েছে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা। করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হলেও এখনো সরকারি এই হাসপাতালটিতে কোনো প্রস্তুতিই শুরু করা যায়নি।

চরতলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীতে ঠাসা। স্বাস্থ্যবিধির নূন্যতম বালাই নেই সেখানে। চতুর্থ তলায় দেওয়া হচ্ছে করোনা টিকা। সেখানে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে করোনা রোগীদের শয্যা। হঠাৎ ওমিক্রনের ঢেউ বাড়লে সেখানে কিভাবে চিকিৎসা চলবে তার কোনো প্রস্তুতির ছিটেফোঁটাও নেই।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে ৪৫ শয্যা নিয়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করেছিলো শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। এর মধ্যে সাধারণ শয্যা ৩৫ আর আইসিইউর শয্যা সংখ্যা ছিলো ১০টি। সেখানে এখন অন্যান্য রোগের চিকিৎসা চলছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল হওয়ায় এখানে আইসিইউ, অক্সিজেন, ভেন্টিলেশনসহ সকল সুবিধা থাকলেও ওমিক্রনের ঢেউ বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে মেডিকেল অফিসার চিকিৎসকের। 

সেক্ষেত্রে নূন্যতম ২০ জন মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক দেয়া না হলে হিমশিম খেতে হবে বলে জানান শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রকাশ দেবনাথ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র করোনা ২শ’ শয্যা বিশিষ্ট ডেডিকেটেড হাসপাতালটিতে প্রতিনিয়ত ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ১৪ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানে।

ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুথপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পূবের ন্যায় চলবে চিকিৎসা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবহেলা না করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওমিক্রণের ঢেউ মোকাবিলায় সবধরণের প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে করেনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো কোনো সংকট তৈরি না হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের ২ হাজার ৭৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৮৮ জনের। যা নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৩.১৯ শতাংশ। একইসময়ে করোনায় আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, রোববার ৪৮৭ জনের করোনা শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছিল।

সোমবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঐ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় মাগুরায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসময়ে খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৬৮৮ জন। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যশোর। এই জেলায় সর্বোচ্চ ১৯৫ জনের শনাক্ত হয়েছে।

আর খুলনায় ১৫২ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া ঝিনাইদহে ৯৮ জন, সাতক্ষীরা ২৬ জন, বাগেরহাটে ২৫ জন, মাগুরায় ২৪জন, নড়াইলে ১৭ জন, মেহেরপুরে ১১ জন ও চুয়াডাঙ্গায় ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!