এ স্থল বন্দর দিয়ে পর্যটন, মেডিকেল, ব্যবসায়ীসহ শতশত ভিসাধারী যাত্রীরা যেতে না পাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব যাত্রীরা স্থল বন্দরের শূন্য রেখায় আকুতি-মিনতি করেও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর (বিএসএফ) মন গলাতে পারেনি। অথচ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভারতে যাওয়া যাবে বলে বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ভারতীয় হাইকমিশন।
যাত্রীরা জানান, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন থেকে তারা ভারত প্রবেশে ছাড়পত্র পেলেও সকাল থেকে কাউকে ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ফলে দুই দেশের শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন ভারতগামী শতশত যাত্রী। এসব যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে পর্যটন, মেডিকেল ভিসাধারী যাত্রী।
.png)
যাত্রীদের মধ্যে সিলেট, মাধবপুর, নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন রয়েছে। তবে দু’দেশে আগে অবস্থান করা যাত্রীরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে কোনো ধরনের বাধা দেয়া হচ্ছে না।
আখাউড়া সীমান্তের দুই দেশের শূন্য রেখায় অবস্থান নেয়া যাত্রীদের মধ্যে নরসিংদীর সবুজ মিয়া বলেন, তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতা যেতে অনেক কষ্ট করে সকালে আখাউড়া স্থল বন্দরে এসেছেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশ করতে না দেয়ায় তারা যেতে পারছেন না। স্ত্রীর শরীরের যে অবস্থা এখন তিনি কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।
সিলেট থেকে আসা অনামিকা রায় বলেন, কলকাতায় স্বামীর চিকিৎসা করাতে আগরতলা থেকে বিমানের দুটি টিকেট ক্রয় করা হয়।
প্রবেশ করার জন্যে অনুমতি থাকলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশ করতে না দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী প্রশান্ত চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে এসেছি ভারতের আগরতলা দিয়ে চেন্নাই যাব চিকিৎসার জন্য। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন শেষ করার পর ভারতে ঢুকতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা আটকে দিয়ে বলছে এখন যাওয়া যাবে না। বিমানের টিকেট কেটে রেখেছি, কি হবে বুঝতে পারছি না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুয়েল বলেন, গত ১ মাস পূর্বে মাকে ভারতের আগরতলা ডাক্তার দেখানো হয়। সেই অুনযায়ী ১ মাসের ওষুধ সেখান থেকে কেনা হয়। ওষুধ শেষ হওয়ায় সকালে আগরতলা যেতে আখাউড়া স্থল বন্দরে আসা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে যাওয়া যায়নি।
আখাউড়া স্থলবন্দরে দায়িত্বে থাকা ইমিগ্রেশন অফিসার আব্দুল হামিদ বলেন, আমার কাছে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রীদের ছাড়পত্র দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী যাত্রীদের ছাড়পত্র দিয়েছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে গ্রহণ করছে না। এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে নিজ নিজ দেশের আগে অবস্থান করা যাত্রীদের ফিরে যেতে বাধা নেই।
স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে গেলেও বন্দরে আমাদানি রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকলে এক মাসে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে সরকার।