ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চুরির অপবাদ দিয়ে কোলের শিশুসহ মা-ছেলেকে আটকে নির্মম নির্যাতন!

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ১৯ অক্টোবর ২০২০
চুরির অপবাদ দিয়ে কোলের শিশুসহ মা-ছেলেকে আটকে নির্মম নির্যাতন!
কোলের শিশুসহ নির্যাতনের শিকার মা ও ছেলে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে কোলের চার বছরের শিশুসহ মা ও ছেলেকে তিনদিন আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড পালাকাটায় এ ঘটনা ঘটে।

রোববার রাত ১১টার দিকে মা-ছেলে ও শিশুকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে উদ্ধারের পর চুরির মামলায় আসামি হওয়ায় তাদের আদালতে নেয়া হলে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Advertisement

নির্যাতিতরা হলেন-চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কোচপাড়ার মো. রফিকের স্ত্রী রশিদা বেগম, তার ছেলে মো. রিপন ও শিশু মেয়ে রাজিয়া বেগম।

নির্যাতিত রশিদা বেগম বলেন, আমার ছেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় রিপন আমড়া বিক্রি করে সংসার চালায়। টার্মিনাল এলাকায় গত দেড় মাস আগে আয়ুব আলীর মালিকানাধীন একটি কুলিং কর্ণার চুরি হয়। গত শুক্রবার সকালে উখিয়ায় খালার বাড়িতে আমার ছেলে রিপন বেড়াতে যায়।

আয়ুব আলীসহ পাঁচজন লোক ওইদিন বিকেলে রিপনকে চুরির অপবাদ দিয়ে হাত বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে সিএনজি যোগে চকরিয়ার পালাকাটায় নিয়ে যায়। সেখানে আয়ুব আলীর বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রেখে ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। পরে মোবাইলে আমাকে খবর দিলে আমি ও আমার চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আমাদেরও আটকে রাখা হয়।

তিনদিন আটকে রাখার পর পালাক্রমে ১০-১২জন নারী-পুরুষ আমাদের ব্যাপক মারধর করে। গাছের বাটাম দিয়ে ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে আমার সমস্ত শরীর থেঁতলিয়ে দেয়া হয়। হাত-পা বেঁধে আমার গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ঢুকিয়ে দেন। নির্যাতনের সময় আমার চার বছরের মেয়েকে আমার কাছ থেকে একদিন আলাদা করে রাখে তারা। ঠিকমতো খাবারও দেয়া হয়নি। আমাদের নির্যাতানের ছবি মোবাইলে ধারণ করে চুরির বিষয়ে স্বীকারেক্তি আদায় করেন। পরে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে দস্তখতও নেয়া হয়।

অপর দিকে সোমবার দুপুরে মো. হারুনর রশীদ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মা ও ছেলেকে আসামি করে থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেছেন।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, মা-ছেলেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। মা-ছেলের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা হয়েছে। এছাড়া তাদের আটকে রেখে মারধরের বিষয়েও একটি মামলা হয়েছে। মা-ছেলেকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!