বুধবার দুপুরে মাদারীপুর জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা আসামি রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিইে এই আদেশ দেন।
মাদারীপুর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, ইটালি প্রবাসী রুহুল আমিন সাদ্দামের স্ত্রী রুমা আক্তার মাদারীপুর শহরের পাঠককান্দ এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামী বিদেশ থাকার সুবাদে ঘটনার তিন বছর আগে রুমার সঙ্গে সদর উপজেলার শিরখাড়া গ্রামের পান্নু হাওলাদারের ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এই সম্পর্কের জের ধরেই একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়।
.png)
২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রাতে রফিকুল রুমার ফ্ল্যাটে যায়। এক পর্যায়ে দুইজনের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এ সময় রুমা বিয়ের জন্য রফিকুলকে চাপ প্রয়োগ করে। এরপর ১১টার দিকে রফিকুল কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রুমাকে খেতে দেয়। ঘুমিয়ে পড়লে রুমার হাত পা বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরের দিন মাদারীপুর সদর থানায় নিহত রুমার মা হেনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে জানতে পারে রুমার সঙ্গে রফিকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। সেই সূত্র ধরেই রফিকুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ ২০১৮ সালে ২ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করে।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় দুই বছর পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত রফিকুলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায়ে নিহতের পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
নিহতের মা মামলার বাদী হেনা বেগম বলেন, আমরা এই রায়ে খুশি। আমরা চাই দ্রুত রায় বাস্তবায়িত হোক।