ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অবৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই স্বামীকে হত্যা, বাদী থেকে হত্যার আসামি স্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৩১, ২২ ডিসেম্বর ২০২০
অবৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই স্বামীকে হত্যা, বাদী থেকে হত্যার আসামি স্ত্রী
উম্মে সালমা

প্রতিবেশী সাকিবের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে উম্মে সালমার। পরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুইজন মিলে খুনের পরিকল্পনার ছক আঁকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকায় ‘খুনি’ ভাড়া করে স্বামী রফিকুল ইসলামের গলা কেটে হত্যা করা হয়। 

পরে নাটকীয়ভাবে আবার স্বামীকে খুনের অভিযোগে নিজে বাদী হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানায় মামলাও করেন। কিন্তু ঘটনার এক বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিস্তৃত তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ওই নারীই আসলে স্বামীর অন্যতম হত্যাকারী। 

রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাতে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার আচলতা এলাকা থেকে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া উম্মে ছালমা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তারা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

Advertisement

পিবিআই কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে সাকিব রফিকুলকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। এ সময় ছালমা দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। এমরান ও সাকিব মিলে তাকে গলা কেটে লাশ ফেলে রাখেন লাউক্ষেতে।

৪ ডিসেম্বর সকালে সীতাকুণ্ড-হাটহাজারী সড়কের পাশে একটি লাউক্ষেত থেকে রফিকুল ইসলামের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্ত্রী উম্মে ছালমা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ মো. এমরান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে।

তবে মামলার তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে সেটির দায়িত্বভার আসে পিবিআই’র কাছে। চলতি বছরের অক্টোবরে পিবিআই মৃত রফিকুলের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সাকিবুল ইসলাম সাকিবকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়। এরপর সাকিব ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার বর্ণনা দেয় এবং এমরান ও উম্মে ছালমার জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করেন।

জেলে থাকা এমরানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। এমরানও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে অভিন্ন তথ্য দেয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে উম্মে ছালমাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান এসপি নাজমুল।

আসামিদের থেকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মো. কামাল আব্বাস বলেন, পাশাপাশি বাসা হওয়ায় উম্মে ছালমা ও সাকিবের মধ্যে অবৈধ প্রণয় গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর রফিকুল বিষয়টি জেনে যান। তখন তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এদিকে সাকিব তাকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেয়। তখন ছালমা বলেন যে, আমি তাকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দিচ্ছি। এরপর পূর্ব পরিচিত এমরানকে ৩০ হাজার টাকায় স্বামীকে হত্যার জন্য ভাড়া করেন ছালমা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!