নিহত সবুজ সরকার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন টনকী ইউনিয়নের মাজুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ছেলে।
সবুজের ফুফু বিলকিস বেগম ও চাচাতো ভাই আরিফুর রহমান মানিক জানান, সবুজ একসময় গাড়ি চালক ছিলেন। সেই সুবাদে পার্শ্ববর্তী বাইড়া গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এ বিষয়ে জানত না তার পরিবার। ৫ বছর আগে সবুজ ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে যাওয়ার ৮ মাসের মাথায় প্রেমের সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত করতে পরিবারের লোকজনকে রাজি করান তিনি। মোবাইলে বিয়ে হয় দুজনের।
.png)
আরো জানা গেছে, বিয়ের পর দুই বছর বেশ ভালো ছিল সবুজের দাম্পত্য সম্পর্ক। এরই মধ্যে তার স্ত্রী বেশ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এমনকি কয়েকবার সে বাড়ি থেকে পালিয়েও গিয়েছিল। প্রতিবার ১০-১৫ দিন বাইরে থেকে আবার বাড়ি ফিরে আসতো সে। বিষয়টি জানার পর সবুজ তাকে ক্ষমা করে দিয়ে সংসার করতে রাজি হয়। ঐ সময় সবুজের সব উপার্জন তার হাতে তুলে দেওয়ার শর্তে সংসার করতে রাজি হয় স্ত্রী। এভাবে কেটে যায় আরো দুই বছর। কিছুদিন পূর্বে আবারো ঐ উপজেলার ত্রিশ গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যায় তার স্ত্রী। বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি সবুজ। এ কারণে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি শুনেছে, তবে বিস্তারিত জানতে পারেননি। গত ৪ ডিসেম্বর সবুজের স্ত্রী তার শাশুড়িকে নির্যাতন করেছে- এমন একটি অভিযোগ পেয়েছিলেন। সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।