মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন।
আসামিরা হলেন- নূর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন সুম কনট্রাকটর, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও দেলোয়ার হোসেন দেলু। পলাতক আসামিরা হলেন, আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান তারেক।
.png)
আদালতের পিপি মামুনুর রশিদ বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদীসহ ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত নয়টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ ১৪-১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত জোর করে ওই নারীর ঘরে ঢোকেন। ঘরে থাকা নারী ও তার স্বামীকে মারধর, নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। এর ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর অভিযুক্তরা ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এরপর হামলার ভয়ে আত্মগোপনে থাকা ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। পিবিআই তদন্তে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। যাদের মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি আটজন আর এজাহারবহির্ভূত আসামি ছয়জন।
পিপি মামুনুর রশিদ আরো বলেন, এ মামলায় ১৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগ গঠনের সময় মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের নাম বাদ দিয়ে ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৯ জন জেলহাজতে রয়েছেন ও পলাতক রয়েছেন চারজন।
পরবর্তীতে দেলওয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার সহযোগী আবুল কালামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আরো একটি মামলা করেন ওই নারী। চলতি বছরের ৪ অক্টোবর ধর্ষণ মামলার রায়ে দেলোয়ার ও তার সহযোগী আবুল কালামকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।