ফুটফুটে সন্তান জন্ম নিলেও স্বীকৃতি দেননি পিতা, এগিয়ে এলেন সিআইডির এসপি
সিরাজগঞ্জে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন পিয়ারা খাতুন। মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় সন্তানটির জন্ম দিন তিনি। কিন্তু ভুক্তভোগী ওই নারী অন্তঃস্বত্ত্বা থাকা অবস্থাতেই তাদের বিয়ে ও গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করেন স্বামী।
এ নিয়ে একটি মামলার তদন্ত এখনও চলমান। এরই মধ্যে ওই নারী সন্তান প্রসব করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা থেকে শুরু করে নবজাতকের দেখভালের যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সিআইডির পুলিশ সুপার(এসপি)।
মামলার বিবরণ ও সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে শাহজাদপুরের জামিরতা গ্রামের মৃত সোরমান মন্ডলের মেয়ে পিয়ারা খাতুনের বিয়ে হয় চৌহালীর জিদপুরে। তবে সে বিয়ে টেকেনি বেশিদিন। বছরখানেক আগে একই গ্রামের হাফিজুলের সঙ্গে মোবাইলে নতুন করে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পিয়ারা। একসময় বিয়েও করেন তারা।
.png)
আরো পড়ুন: গাজীপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ১৫
পরে গার্মেন্টস কারখানায় কাজের জন্য ঢাকায় চলে আসেন পিয়ারা-হাফিজুল। একপর্যায়ে পিয়ারা অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে বাচ্চা প্রসবের জন্য তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন হাফিজুল। আর এরপর থেকেই গর্ভের সন্তানসহ পিয়ারার সঙ্গে হওয়া বিয়েও অস্বীকার করেন হাফিজুল। এমনকি কাজিও তাদের বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে দাবি পিয়ারার।
এ নিয়ে গত নভেম্বর মাসে শাহজাদপুর আদালতে বিয়ে এবং অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন পিয়ারা। আর এই অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে সিরাজগঞ্জ সিআইডি। তদন্ত এখনো চলছে। এরই মধ্যে সোমবার প্রসবের ব্যাথা উঠলে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোন দেন পিয়ারা। মানবিক কারণে সিআইডির কর্মকর্তা শাহজাদপুরের জামিরতা থেকে পিয়ারাকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে এনে প্রসবের সব ব্যবস্থা করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান।
সিরাজগঞ্জ সিআইডির এসপি কামাল হোসেন জানান, মেয়েটির পিতৃত্বের পরিচয় সঠিকভাবে নিরুপণের জন্য সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন। মানবিক কারণেই তারা গর্ভবতী মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মামলার সঠিক তদন্ত ও ফুটফুটে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে অসহায় এ মা ও শিশুটির পাশে থাকবেন।