ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বাস্থ্যকর্মীকে রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৫, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১
স্বাস্থ্যকর্মীকে রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় এ ঘোষণা দেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিমাংশু লাল দাশ।

তিনি বলেন, নিরীহ একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় পিটিয়ে মেরে ফেলা খুবই নেক্কারজনক। এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাই। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

Advertisement

হবিগঞ্জ জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী বলেন, সাইফুল ইসলাম করোনার সময় হাজার হাজার মানুষকে সেবা দিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি করোনার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আজ এই ছেলেটাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। এতে শুধু আমরা স্বাস্থ্যকর্মীরা নই, পুরো হবিগঞ্জের মানুষ মর্মাহত। স্বাস্থ্য বিভাগ যে কর্মসূচি ঘোষণা দেবে আমরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

আরো পড়ুন: জেএমবির সামরিক কমান্ডার সেলিম রিমান্ডে

প্রতিবাদ সভা শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। পরে তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরআগে মঙ্গলবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেন। 

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ আহমেদ ইমতিয়াজ তুহিন জানান, সাইফুলের মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। তিনি নবীগঞ্জের পুরানগাঁও গ্রামের তাহমিনা বেগম চৌধুরী নামে এক নারীকে ধর্ম মা ডেকেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাহমিনা বেগম সদর হাসপাতালে করোনা টিকা নিতে আসেন। টিকা নেয়া শেষে সাইফুল তাহমিনা বেগমকে বাড়ি যেতে রিকশা যোগে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শহরের টাউন হল এলাকার স্যামসাং শো-রুমের সামনে কয়েকজন যুবক তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিলে তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে সাইফুল মারা যান।

সাইফুলের সঙ্গে থাকা নারী তাহমিনা বেগম চৌধুরী বলেন, দুপুরে দুই যুবক রক্ত দিতে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসেন। এ সময় সাইফুলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সাইফুলকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।

তিনি বলেন, সাইফুল আমাকে গাড়িতে তুলে দিতে রিকশা দিয়ে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের (বর্তমান সিএনজি স্ট্যান্ড) উদ্দেশ্যে রওনা হন। টাউনহল রোড এলাকায় রিকশা থেকে হঠাৎ তাকে টেনে নামায় এক যুবক। এ সময় পেছন থেকে আরও এক যুবক বড় একটি বাঁশ দিয়ে সাইফুলের মাথায় আঘাত করেন। এরপর তারা সাইফুলকে মাটিতে ফেলে আবারও মারতে থাকেন। 

হবিগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দৌস মোহাম্মদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আমরা কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি, সেখান থেকে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!