পৌষের ঠান্ডায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম
সীমান্ত ঘেঁষা ও ১৬ নদ-নদী বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রামের জনপদে পৌষের ঠান্ডা জেঁকে বসেছে। এখানে ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষের সঙ্গে প্রাণীকূলও। ১৫ ডিগ্রির নিচে বিরাজ করছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নিচে প্রতিদিনেই রেকর্ড করা হচ্ছে। বুধবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রামে অন্যান্য দিনের সঙ্গে বুধবার ঠান্ডার পরিধি ছিল অনেকাংশে বেশি। সারাদিনেই এখানে সূর্যের দেখা মেলেনি। তবে বৃহস্পতিবার ভোর সকাল থেকেই থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি বয়ে যাওয়ায় ঠান্ডা বেড়ে যায়। এখানে তীব্র ঠান্ডায় যোগ হয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় ঠান্ডা কাতর হয়ে পড়ে মানুষের সঙ্গে প্রাণীকূলও। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঠান্ডার কারণে শিশু-বৃদ্ধের মাঝে জ্বর, সর্দির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
.png)

হাট-বাজারে ঠান্ডা কাতর মানুষেরা ভিড় করছেন মোটা কাপড়ের দোকানে। নতুন ও পুরাতন মোটাকাপড়ের দোকানগুলোতে ঠান্ডা কাতর মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
স্থানীয় মইনুল মার্কেটে পুরান কাপড় কিনতে আসা জমেলা বেগম বলেন, এখন তীব্র ঠান্ডায় আমি ও আমার ছোট মেয়ে মোহনার জন্য মোট কাপড় কিনতে এসেছি। মোটা কাপড় না পড়লে ঠান্ডায় জ্বর, সর্দি আসতে পারে।
স্থানীয় সুজন মিয়া বলেন, পুরান কাপড়ের দোকানে কম মূল্যে মোটা কাপড় পাওয়া যায়। তাই ঠান্ডা নিবারণের জন্য মোটা কাপড় কেনার চেষ্টা করছি।
বোস্তামী আলম নামে এক যুবক জানান, কুড়িগ্রামের তীব্র ঠান্ডা আমাকে কাবু করেছে। এতা বেশি ঠান্ডা যে, মোটা কাপড় পরেও যেন ঠান্ডা নিবারণ হচ্ছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, বুধবার থেকে কুড়িগ্রামে ঠান্ডা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকে সারা দিনেই আমরা সূর্যের দেখা পাইনি। রোদ না ওঠায় তীব্র ঠান্ডায় আমরা কাতর হয়েছি।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, কুড়িগ্রামে ঠান্ডার পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নিচে প্রতিদিনেই রেকর্ড করা হচ্ছে।
বুধবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশে মেঘ থাকায় এখানে সূর্য দেখা মিলছে না। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি আরো বলেন, কুড়িগ্রামে জানুয়ারিতে বড়ধরনের শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। তবে এখানে একটি বৃষ্টি বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই আবহাওয়া স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসবে।