ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সন্তান জন্মের আধাঘণ্টা পর পরীক্ষা দিলেন মা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০৮, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১
সন্তান জন্মের আধাঘণ্টা পর পরীক্ষা দিলেন মা
রেশমা বেগমের সন্তান (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

প্রসববেদনা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেশমা বেগম। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সন্তান জন্ম দেওয়ার আধাঘণ্টা পর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।

রেশমা বেগম ভৈরব পৌরশহরের চন্ডিবের এলাকার শান্ত মিয়ার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ির পৌরশহরের কালীপুর গ্রামে। তিনি রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

আরো পড়ুন: সন্তানকে ছুঁয়ে দেখা হলো না রিয়াজের

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে গেলে সেখানে  চিকিৎসক ডা. ওবায়দুর রহমান হাসান, ডা. আমিনুল ইসলাম অপু, ডা. ঝুনু রোজারিওসহ তাদের জরুরি প্রসূতি টিম ঐ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পদ্ধতিতে (নরমাল ডেলিভারি) বাচ্চা প্রসব করান। তখন মা ও তার নবজাতক দুজনই সুস্থ ছিলেন।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খুরশীদ আলম বলেন, প্রসব বেদনা নিয়ে সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন রেশমা বেগম নামের এক সন্তানসম্ভবা নারী। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় জন্মদান করেন এক সুস্থ সবল নবজাতক। কিন্তু আজ ছিল তার এইচএসসি পরীক্ষার সমাজকল্যাণ বিষয়ের শেষ পরীক্ষা ছিল।

আরো পড়ুন: কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় যেন মায়ের অপরাধ! তবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাবা

তিনি আরো বলেন, তাই নবজাতক জন্মদানের পর প্রসব বেদনা আর সন্তান জন্মদানের কষ্ট তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। স্বল্প সময়েই নিজেকে প্রস্তুত করে ছুটে গেছেন তার নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্রে।

পরীক্ষার্থী রেশমার স্বামী মো. শান্ত বলেন, আমার স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আজ ছিল তার শেষ পরীক্ষা। কিন্তু সকালে তার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে সন্তান জন্মদান করে আমার স্ত্রী তার শেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে তার নির্ধারিত কেন্দ্রে ছুটে যান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএডি
ট্যাগ: শিশু স্ত্রী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!