খুমেকে ফ্রিতে চিকিৎসা পাচ্ছেন কিডনি রোগীরা
বেসরকারিভাবে কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। এই চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগ যাত্রা শুরু করে।
অত্যাধুনিক ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন নিয়ে হাসপাতালে বৃহৎ পরিসরে চালু হয়েছে বিভাগ। এতে খুলনার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হয়েছে।
শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জন কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে দুজন কিডনি রোগীর বায়োপসি পরীক্ষা করা হয়েছে। যা বেসরকারিভাবে বায়োপসি করতে একজন রোগীর প্রয়োজন ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া ডায়ালাইসিস (ক্যাথেটার) নিয়মিতভাবে রোগীদের ফ্রি করানো হচ্ছে। যা বেসরকারিভাবে করতে গেলে খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকা। এর ফলে খুমেক হাসপাতালে কিডনি বিভাগ চালু হওয়ায় অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
.png)
খুমেক হাসপাতালে কিডনি বিভাগের সূত্রমতে, ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর খুমেক হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে কিডনি বিভাগ যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকে রোববার পর্যন্ত ১৫ জন কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে সম্প্রতি বিনা খরচে দুইজন কিডনি রোগীকে কিডনি বায়োপসি করানো হয়। যা বেসরকারিভাবে বাইরে থেকে ওই পরীক্ষা করতে খরচ পড়তো ২৫ হাজার টাকা। যা দরিদ্র রোগীর পরিবারের ক্ষেত্রে খরচটা কষ্টসাধ্য। এছাড়া এ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস (ক্যাথেটার) নিয়মিতভাবে ফ্রি হচ্ছে।
খুমেক হাসপাতালের কিডনি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সিদ্ধার্থ বাওয়ালী বলেন, খুমেক হাসপাতালে কিডনি বিভাগ চালু হওয়াতে অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কারণ বেসরকারিভাবে কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। একজন কিডনি রোগীর বায়োপসি করতে হলে বেসরকারিভাবে খরচ হতো ২৫ হাজার টাকা। আমরা ওই বায়োপসি কিডনি রোগীদের বিনা খরচে করে দিচ্ছি। দুইজন ভর্তিকৃত কিডনি রোগীর কিডনি বায়োপসি করেছি। এছাড়া নিয়মিতভাবে বিনা খরচে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস (ক্যাথেটার) হচ্ছে। ডায়ালাইসিসসহ ক্যাথেটার দিয়ে বাইরে থেকে করাতে হলে জনপ্রতি রোগীদের খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, কিডনি বিভাগে তিনি ছাড়াও রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন সহকারী অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) ডা. পলাশ তরফদার ও রেজিস্টার ডা. মিঠুন দেবনাথ।
আরো পড়ুন: ১৮ বছর পর ফিরে এলেন গৃহবধূ
ডা. সিদ্ধার্থ বাওয়ালী বলেন, কিডনি বিভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে জনবলের পাশাপাশি আরো অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন। এরমধ্যে ডায়ালাইসিস মেশিন, আর.ও মেশিন এবং প্রোটাবল আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। এরমধ্যে কিডনি রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেশিন হচ্ছে ডায়ালাইসিস মেশিন।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান বলেন, খুলনা জেলায় কিডনি রোগীদের অসহায়ত্ব দিন দিন বাড়ছে। কারণ কিডনি রোগের চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল। খুলনায় মোট আক্রান্ত রোগীর খুব কম সংখ্যকই সরকারিভাবে সেবা পায়। আমরা সবেমাত্র কিডনি বিভাগটা চালু করেছি। প্রথমপর্যায়ে আমরা ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন, আর.ও মেশিন দুটি ও তিনটি প্রোটাবল আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন চেয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছি। আশা করি, খুব শিগগিরই মেশিনগুলো আমরা পাবো। এতে খুলনার মানুষের কিডনি চিকিৎসায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।
খুমেক হাসপাতালের কিডনি বিভাগে গত ১৩ দিন ধরে হাদিউজ্জামান নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন আছেন। রোববার তার কিডনি বায়োপসি করানো হয়। তার পিতা মো. লিয়াকত হোসেন পেশায় একজন দিনমজুর।
হাদিউজ্জামানের মা জানান, এই হাসপাতালে যদি তার ছেলের কিডনি বায়োপসি করানো না যেতো তাহলে বাইরে থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে এই মুহূর্তে বায়োপসি করানো তার পক্ষে সম্ভব হতো না।
অপর রোগী ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা প্রকাশ, তাকেও একইদিনে বায়োপসি করানো হয়েছে। পেশায় তিনি ঢালাই কাজ করতেন। গত একমাস ধরে এই হাসপাতালে কিডনিজনিত কারণে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। ছেলেটির পিতা সুবল কুমার শীল ক্যান্সারের আক্রান্ত। বর্তমানে তার পিতা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন।