গাজীপুরের শ্রীপুরে গত ৩ জানুয়ারি গজারী বন থেকে ঐ নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা পর হত্যার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, লাকড়ি কুড়াতে গেলে ঐ নারীকে ধর্ষণ করেন তারা। পরে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
.png)
আরো পড়ুন: যমুনা নদীতে ২ নৌকার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ১৮ গরুর
শনিবার (৮ জানুয়ারি) তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন ওমর ফারুক ও রাব্বি। ফারুক উপজেলার লোহাগাছ বিন্দুবাড়ি গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে এবং রাব্বি একই এলাকার মো. হাসমতের ছেলে। নিহত রাশিদা বেগম শ্রীপুর পৌর এলাকার মাধখলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই মো. আমজাদ শেখ জানান, রাশিদা বেগম বাড়ির পাশে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত ১ জানুয়ারি বাড়ির অদূরে দক্ষিণ ভাংনাহাটি এলাকার তালুকদারের ভিটা নামের গজারিবনের লাকড়ি কুড়াতে যান তিনি। সেখানে অভিযুক্ত ওমর ফারুক গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন ও রাব্বি গরু চড়াচ্ছিলেন। এরমধ্যে অভিযুক্তরা রাশিদাকে একা পেয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার উদ্দেশ্যে পেছনে থেকে জাপটে ধরেন। তখন রাশিদা চিৎকার দিলে তার গলায় থাকা ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ফারুক ও রাব্বি ধর্ষণ করেন। রাশিদা ও ফারুক একই কারখানার চাকরি করতেন। ফলে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে ফারুক ও রাব্বি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে দেন। স্থানীয়রা পরদিন জঙ্গলে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
আরো পড়ুন: আসছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ
তিনি আরো জানান, হত্যার পর রাশিদার স্বর্ণের নাকফুল ও গলায় থাকা রূপার চেইন নিয়ে ওমর ফারুক স্থানীয় সাঈদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির জন্য যান। পরে সাঈদের দেওয়া তথ্যেমতে ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে বোনের বাড়ি জামালপুর থেকে নাকফুল ও রূপার চেন উদ্ধার করা হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে ওমর ফারুক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।