ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, দুইজনের যাবজ্জীবন

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:১৮, ১১ জানুয়ারি ২০২২
মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, দুইজনের যাবজ্জীবন
রায় ঘোষণার পর আসামি রাসেলকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

দাবিকৃত মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা না পেয়ে ৭ বছরের শিশু রিয়া মনিকে হত্যার দায়ে আসামি রাসেল মিয়া ও সালাউদ্দিনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড(যাবজ্জীবন) ও লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এ রায় দেয়। রায় প্রদানের সময় আসামি রাসেল কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও অপর আসামি সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পরান তাম্বুলপুর গ্রামে আব্দুর রহিমের ৭ বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনিকে সালাহ উদ্দিন ও রাসেলসহ তার সঙ্গীরা জুস খাওয়ানোর কথা বলে অপহরণ করেন। 

Advertisement

অপহরণকারীরা রিয়ার বাবা ও স্বজনদের মোবাইলের মাধ্যমে করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না পাওয়ায় আসামিরা রিয়া মনিকে জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আসামিদের বাড়ির অদূরে একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

আরো পড়ুন: পদ্মায় জালে ধরা পড়লো ১৩ কেজির চিতল

এ ঘটনায় মোবাইলের সূত্র ধরে আসামি রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তিনি সহযোগী সালাউদ্দিনের নাম বলেন। এরপর পুলিশ সালাউদ্দিকেও গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২৫ দিন পর বাড়ির পার্শ্বে এক বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মৃত রিয়া মনির লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত রিয়া মনির বাবা আব্দুর রহিম বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামি রাসেল ও সালাহ উদ্দিনসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত আসামি সালাহ উদ্দিন ও রাসেলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের দুইজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। 

মামলার অপর ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত। সালাহ উদ্দিন পলাতক থাকায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!