কালকিনি পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর রাজদী গ্রামের শাহিনুর বেগম। নিঃসন্তান শাহিনুরের স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। সেই থেকে বোনের বাড়িতে ছোট্ট একটি ঘর তুলে বসবাস করছেন তিনি। শাহিনুরের বোন-ভগ্নিপতিও অনেক আগে মারা গেছে। আপনজন বলতে আর কেউ নেই। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে খেতেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে ভাতা না পাওয়ায় মানবেতন জীবনযাপন করছেন তিনি।
একই গ্রামের ৮০ বছরের রহিমুন নেসা একমাত্র মেয়ে ও দরিদ্র জামাইর বাড়িতে থাকেন। তিনিও এক বছর ধরে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ভাতা পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় হত-দরিদ্র, অসহায় রহিমুন নেসাও মানবেতন জীবন যাপন করছেন।
.png)
কালকিনি উপজেলার বিভাগদী গ্রামের দেলোয়ার সরদারের প্রতিবন্ধী ছেলে মারুফ আহমেদও এখনো পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভাতা পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুধু এই তিনজন না, কালকিনি পৌরসভার তথ্য মতে- এমন আরো তিন শতাধিক ভাতাভোগী গত এক বছর ধরে ভাতা পাচ্ছে না।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলায় ১০ হাজার ৯৪১ জন বয়স্ক ভাতা, ৪ হাজার ৩৬৯ জন বিধবা ভাতা, ৪ হাজার ৪৭৫ জন প্রতিবন্ধী ভাতা ও ১৭১ জন শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধাভোগী আছে।
কালকিনি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান তালুকদার লাবু বলেন, ভাতাভোগী তিন শতাধিক মানুষ আমার কাছে এসেছিল। তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে জেনেছি সমাজসেবা অফিসের জটিলতার কারণে তারা ভাতা পাচ্ছে না।
এদিকে, উপজেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমানের দাবি- সঠিকভাবেই তালিকা অনুযায়ী প্রতি কিস্তিতে ভাতার টাকা মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে। কেউ টাকা না পেলে কাগজপত্র তদারকি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।