মেয়ে শিশুতে অসন্তুষ্ট, অন্যের ছেলে নবজাতক চুরি করায় বাবা গ্রেফতার
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে জন্ম নেয়া নবজাতক বদলের ঘটনায় মেয়ে নবজাতকের বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে ছেলে নবজাতকটির বাবার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি নবজাতক বদল করেছিলেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃত মাসুম চৌধুরী আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
.png)
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ভোরে হাসপাতালে একটি ছেলে নবজাতকের জন্ম দেন জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার। এর প্রায় ৩০ মিনিটি পরে সেখানে আরেকটি মেয়ে নবজাতকের জন্ম দেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের মাসুম চৌধুরীর স্ত্রী। শিশুদের স্পেশাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয় দুটি নবজাতককেই। মায়েরা ভর্তি ছিলেন হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে।
আরো পড়ুন: ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় জামাই-শ্বশুরের ২২ দিন কারাবাস
এদিকে একই দিন সকাল ৯টায় মাসুম মিয়া তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য ওই ইউনিট থেকে মায়ের কাছে আনতে যান। এ সময় তিনি নিজের মেয়ে নবজাতককে না এনে আনেন ফেরদৌসী আক্তারের ছেলে নবজাতকটিকে। কিছুক্ষণ পর ফেরদৌসির স্বজনরা বাচ্চা আনতে গেলে দেখেন তাদের বাচ্চাটি নেই। এরপর তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন ও বাচ্চা চুরি হয়েছে বলে চিৎকার শুরু করেন।
পরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সদর মডেল থানার পুলিশ। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা এ নিয়ে গোলমালের পর বিকেল ৩টায় ফেরদৌসীর ছেলে বাচ্চাটিকে মাসুমের স্ত্রীর পাশে পাওয়া যায়। এ সময় পুলিশ যার যার নবজাতক তার তার হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন ছেলে নবজাতকটির বাবা দেলোয়ার হোসেন।
সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী জানান, হাসপাতালে মাছুমের মেয়ে শিশু জন্ম হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এজন্য তিনি পাশের শয্যায় থাকা ছেলে নবজাতকটি ইচ্ছাকৃতভাবে চুরি করেছিলেন। ছেলে নবজাতকের বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।