ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় হত্যা, লাশের গলা কেটে খালে ফেলে দেন মাসুদ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় হত্যা, লাশের গলা কেটে খালে ফেলে দেন মাসুদ
মার্জিনা আক্তার হত্যায় গ্রেফতারকৃত শেখ মাসুদ ও তার স্ত্রী রেখা

ঢাকার মিরপুরের মার্জিনা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলা কেটে লাশ রাখা হয় প্যাকেটের মধ্যে। ঘটনার রাতেই লাশটি বস্তায় ভরে সিএনজিতে করে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয় পানিতে।

হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পর সেই লাশ উদ্ধার করে অজ্ঞাত হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করে পুলিশ। এরপর ক্লুলেস এ হত্যার রহস্য বের করতে মাঠে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি শেখ মাসুদ ও তার স্ত্রী রেখাকে।

শুক্রবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্জিনা আক্তার হত্যার রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি জানান মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান।

Advertisement

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ঐ প্রেস ব্রিফিংয়ে সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান, ৬ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে মার্জিনা আক্তারের। এরপর থেকে একাই ঢাকায় থাকতেন তিনি। মিরপুরে মাসুদের ভাড়া বাসায় সাবলেট হিসেবে থেকে মার্জিনা আক্তার ডেন্টাল হাসপাতালে কাজ শিখছিলেন। মার্জিনা তার স্বর্ণালংকার মাসুদকে দেন বন্ধক রেখে টাকা এনে দেওয়ার জন্য। মাসুদ ওই স্বর্ণালংকার বন্ধক না রেখে তা বিক্রি করে দেন। মার্জিনাকে জানানো হয় ২০ হাজার টাকায় স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে মার্জিনা ২০ হাজা‌র টাকা মাসুদকে দিয়ে স্বর্ণালংকার ফেরত চান। এ নিয়ে মার্জিনার সঙ্গে মাসুদের কথা কাটাকাটি হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে মার্জিনাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মাসুদ। এরপর স্ত্রী রেখার সহায়তায় লাশের গলা কেটে কাগজের কার্টনে প্যাকেট করেন। রক্ত যাতে বের না হয় সেজন্য কার্টনকে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন। ঐদিন সন্ধ্যার পর একটি সিএনজি ভাড়া করে বস্তাটি নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ওয়াইজনগর গ্রামে একটি খালে ফেলে দেন।

মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে লাশ কি অবস্থায় রয়েছে তার খোঁজ নিয়ে গেছেন মাসুদ। তিনি নিশ্চিত ছিলেন হত্যার ঘটনা কেউ জানতে পারবে না। কারণ হত্যার ২১ দিন পর ১৪ জানুয়ারি পুলিশ ওয়াইজনগর থেকে বস্তাভর্তি প্যাকেটটি উদ্ধার করে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করে। সিংগাইর থানায় দায়ের হয় ক্লুলেস হত্যা মামলা।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার এসআই আব্দুল হালিম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মাসুদ ও রেখা। মাসুদের দেওয়া তথ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল উদ্ধার করা হয়। সেই মোবাইলের সূত্রে ধরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর তার ভাই মহিদুর রহমান ও বোন লিপি আক্তার ছবি দেখে শনাক্ত করেন খুন হওয়া নারী তাদের বোন মার্জিনা আক্তার।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান জানান, শুক্রবার আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করতে আদালতে তোলা হয়েছে। যারা নিহতের ভাই-বোন পরিচয় দিয়েছেন প্রয়োজনে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!