কথাগুলো বলছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী জামাল হোসেন। ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি। তীরে উঠে যে ছয়জন প্রাণে বেঁচে গেছেন তাদের একজন মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, ঘন কুয়াশার মধ্যে যখন দুটি নৌযান মুখোমুখি তখন মাটিবাহী ট্রলার থেকে বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক সংকেত দেওয়া হলেও তা মানেনি বালুবাহী বাল্কহেডের চালক। এতে মুহূর্তের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা ১১ জনের মধ্যে তিনিসহ ছয়জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে ট্রলারের ভেতর একটি কক্ষে আটকা পড়েন পাঁচজন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই মারা যান।
.png)
আরো পড়ুন: প্রেমের কারণে ঝরল স্কুলছাত্রের প্রাণ
সোমবার ভোরে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাটিবাহী একটি ট্রলার ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১১ জনের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। সকাল ৭টায় সদর উপজেলার মমিনপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। স্থানীয়রা জানায়, মূলত ঘন কুয়াশা এবং বেপরোয়া চালনার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত বাল্কহেড এবং তার চারজন স্টাফকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ।
নিহতদের সবার বাড়ি কুমিল্লা জেলার তিতাস এবং মুরাদনগর উপজেলায়। তারা সবাই ইটভাটার মাটি কাটা শ্রমিক ছিলেন।
আরো পড়ুন: জেলের জালে উঠে এলো ১০ মণ ওজনের শাপলাপাতা
নিহতরা হলেন কুমিল্লা তিতাস উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের নাছির উদ্দিন, একই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম, মুরাদনগরের মাদবপুর গ্রামের আল আমিন, একই উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মোবারক হোসেন ও শোষনন্দিয়া গ্রামের আব্দুল আউয়াল।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারের ভেতর থেকে চারজনের মৃতদেহ এবং গুরুতর আহত ট্রলারের মাঝি আব্দুল আউয়াল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাল্কহেডের চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- নোয়াখালীর ইউনুস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের আবুল বাশার, দিদার হোসেন ও জাবেদ হোসেন।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সাহিদুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এ সময় প্রশিক্ষিত ডুবুরি হাসিবুর রহমান ও রাজিব হোসেনসহ আরো কয়েকজন ডুবন্ত ট্রলার থেকে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন, ঘন কুয়াশার মধ্যে বেপরোয়া গতিতে বাল্কহেড চালনার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের প্রধান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বালুবাহী বাল্কহেড এবং তার চার স্টাফকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইকবাল-১ নামে বাল্কহেড চাঁদপুর শহরের ট্রাকঘাট এলাকা থেকে হাজীগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। আর দুর্ঘটনার শিকার মাটিবাহী ট্রলার ঘটনাস্থলের পাশের একটি বিল থেকে কাঁচামাটি নিয়ে আরেক পাশের একটি ইটভাটায় যাচ্ছিল।