ট্রলারডুবির ঘটনায় চিরদিনের মতো হারিয়ে গেল তিন বোন
মেঘনা নদীতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ শিশু তামান্না আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চরকাঁঠালিয়া গ্রামের কাছে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নদীর ঘটনাস্থলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় তিন মেয়েকেই হারালেন ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া।
মৃত তামান্না আক্তার কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ছোট কাটামারী গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে চরকাঁঠালিয়া গ্রামের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ফরিদ মিয়ার দুই মেয়ে আয়েশা আক্তার ও মরিয়ম আক্তার এবং তার শাশুড়ি জুলেখা বেগমের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার ফরিদের আরেক মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হলো। ট্রলারডুবির ঘটনায় তিন বোনের সবাই মারা গেল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদ মিয়া ঢাকার ডেমরায় ব্যবসা করেন। সেখানে পরিবারসহ থাকতেন। পরিবারের সদস্য ও বেশ কয়েকজন স্বজনকে নিয়ে গতকাল বেলা ৩টার দিকে ঢাকা থেকে দাউদকান্দির ট্রলারঘাটে নামেন তারা। ট্রলারে করে তারা অসুস্থ এক স্বজনকে দেখতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দড়িগাঁও গ্রামে যাচ্ছিলেন।
.png)
আরো পড়ুন: ‘সব ধান খেয়ে ফেলেছে, এখন হাতির চোখ পড়েছে সরিষা ক্ষেতে’
ট্রলারটি মেঘনা নদীর চরকাঁঠালিয়া গ্রামের কাছে পৌঁছালে পেছনের ইঞ্জিনের পাখা ভেঙে পানি ঢুকে ট্রলার ডুবে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ফরিদ মিয়ার দুই মেয়ে ও শাশুড়ি মারা যান। নিখোঁজ ছিল তার অপর মেয়ে তামান্না। পরে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে দাউদকান্দির এলহাম হাসপাতালে রাখা হয়।
মেঘনা নৌ পুলিশের এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটির পেছনের ইঞ্জিনের পাখা ভেঙে পানি ঢুকে ডুবে যায়। এ ঘটনায় নানি ও তার তিন নাতনির মৃত্যু হয়েছে।
মেঘনা থানার নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে মেঘনা নৌ পুলিশ ও দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়েছে।