নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মহেশপুর ইউপির বেগনাবাজ ঝাউকান্দি গ্রামের মুদি দোকানি আয়েস আলীর ছেলে সাইফুল। পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাইফুল চতুর্থ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাইফুল এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে পড়ালেখায় মনোযোগ না থাকায় বোনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এলাকায় চলে যান। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে অল্প বেতনে চাকরি করতেন। সময়-অসময়ে বোনের স্বামী রওশন গাজীর সঙ্গে ছোটখাটো ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সাইফুলের মনে বাসা বাঁধে বিদেশ যাওয়ার। বিদেশে যাওয়ার জন্য মা-বাবার কাছে আবদারও করতেন। অবৈধ পথে দিতে পীড়াপীড়িতে রাজি হয়নি পরিবারের সদস্যরা। ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন পেয়ে বসেছিল নাচোড়বান্ধা সাইফুল মিয়াকে। শেষে তার এই চাওয়া পূরণে এগিয়ে আসেন প্রবাসী ভাই সোহরাব।
.png)
অবশেষে আড়াই মাস আগে সিলেটের এক দালালের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে যাওয়ার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হন সাইফুল। দালাল প্রথমে সাইফুলকে লিবিয়ায় নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত লিবিয়া থেকে আর ইতালি পৌঁছাতে পারেননি সাইফুল। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অতিরিক্ত ঠান্ডায় মৃত্যু হয়েছে তার।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগে দালালের অধীনে গোপন জায়গায় ছিলেন সাইফুল। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে ফোন দিতেন। বোন সুজনার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় ২১ জানুয়ারি। এর পর থেকে সাইফুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
নিহতের গ্রামের বাড়িতে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায় বাবা আয়েস আলী, মা হনুফা বেগমকে। ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তারা। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। তারা অন্তত ছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চান। আর কিছু না হলেও ছেলের লাশটা তারা চান।