ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অস্ত্রোপচারের পর চলে গেলেন চিকিৎসক, রক্তক্ষরণে মা ও শিশুর মৃত্যু

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
অস্ত্রোপচারের পর চলে গেলেন চিকিৎসক, রক্তক্ষরণে মা ও শিশুর মৃত্যু
(ছবি: সংগৃহীত)

লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকায় সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্বজনদের দাবি, প্রসূতি ও নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকায় দুজনের মৃত্যু হয়। তবে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়নি বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে উপজেলার টংগুয়া গ্রামের ধরপাড়ার আবু সায়েমের স্ত্রী মাজেদা বেগমের প্রসববেদনা শুরু হলে পাকেরহাট লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে নেয়া হয়।

Advertisement

পরে ওই ক্লিনিকের দায়িত্বরত নার্সরা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করার পর রোগীর স্বজনদের আগ্রহে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকে সিজার করা হয়। সে সময় রোগীর সিজার করেছিলেন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম।  

সিজার সম্পন্নের পর চিকিৎসক ওই ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যান। এরপর প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসূতি ও নবজাতককে নার্স ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রদান করে। এরপরও তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে রাতে প্রথমে নবজাতক ও পরে প্রসূতিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে প্রসূতি এবং কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন: ‘মামুন আমার প্রেমিক, সজিবকে তালাক দিয়ে তাকেই বিয়ে করবো’

মৃত প্রসূতির স্বামী আবু সায়েম জানান, চিকিৎসক ভুলে সিজার করতে গিয়ে নাড়ি কেটে ফেলেন। পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে পাঠান। সেখানে ভর্তির পরপরই প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

অপারেশনকারী সার্জন ডা. রবিউল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়নি বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ নওশাদ জানান, সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতি ও নবজাতক মারা যায়।  

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কাম্য নয়। বিষয়টি জানার পর তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পাকেরহাটে অবস্থিত ইনফিনিটি ক্লিনিকে এক প্রসূতি ও মমতাজ ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!