বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।
তিনি জানান, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া পশ্চিমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সাহেরা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঐ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পারভীন আক্তার বাসন থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ প্রায় এক বছর তদন্ত করে মামলাটি পিবিআই গাজীপুরে হস্তান্তর করে। এরপর দীর্ঘদিন গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে ঐ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সাহেরা বেগমের একমাত্র ছেলে বাবুল প্রথম স্ত্রীসহ বিদেশে থাকতেন। এ কারণে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের নাতনি সারা মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থলের বাড়িতে বসবাস করতেন। বাসায় ফরিদা বেগম নামে একজন বুয়ার কাজ করতেন। ঐ কাজের বুয়ার ছেলে আল আমিন ভিকটিমের বাসায় মাঝেমধ্যেই যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে তাকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করাতেন সাহারা বেগম।
আরো জানা গেছে, ঘটনার আগেরদিন (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে আল আমিনের সঙ্গে পূর্ব পরিচিত মামুনুর রশীদের দেখা হয়। ঐ সময় মামুন কাজ আছে বলে রাত সাড়ে ১০টায় নিজ বাসার সামনে যেতে বলে আল আমিনকে। কথা মতো, আল আমিন গিয়ে হাজির হলে মামুন তাকে সাহেরা বেগমের ছেলের বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার লুট করার পরিকল্পনার কথা বলে। পরিকল্পনা মোতাবেক আল আমিন ভিকটিমের বাসার সামনে পাহাড়া দেয়া আর মামুন বাড়ির মেইনগেটের সামনে গিয়ে সাহেরা বেগমকে ডেকে বলে- গেট খোলেন, আপনার ছেলে বাবুল বিদেশ থেকে ফোন করেছে। পরে গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে সাহেরার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে এবং নিচে ফেলে দেয়। এতে সাহেরা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মামুন ঘরের ভেতর গিয়ে আলমারি থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে মেইন গেট তালাবদ্ধ করে চলে যায়। এ কাজের জন্য আল আমিনকে ১০ হাজার টাকা দেয় মামুন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া লুট করা টাকা-স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা শিগগিরই নেয়া হবে।