ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নির্যাতনের ঘাঁটি ছিল বাগবাড়ীর টর্চার সেল

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর 
প্রকাশিত: ২১:৪৭, ৫ মার্চ ২০২২
নির্যাতনের ঘাঁটি ছিল বাগবাড়ীর টর্চার সেল
গুদামঘরটি রাজাকার, আলবদর ও পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের ঘাঁটি ছিল। টর্চার সেল । ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে সেকালে ছিল এক বাগানবাড়ি। যার নাম এখন বাগবাড়ী। বর্তমানে সেটি সদর উপজেলা বিএডিসি গুদাম ঘর। এই গুদামঘরটি সেকালে রাজাকার, আলবদর ও পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের ঘাঁটি ছিল। টর্চার সেল নামে পরিচিত ছিল এটি।

জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নিরস্ত্র মানুষদের এখানে ধরে এনে অমানুষিক নির্যাতন চালাত রাজাকার বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও সাধারণ মানুষেট পাশাপাশি রেহাই পায়নি গ্রামের সুন্দরী যুবতীরা। এখনো সেখান দিয়ে হেঁটে যেতেই গা শিউরে ওঠে। 

এখানে অসংখ্য শহীদ নারী-পুরুষকে ধরে এনে বর্বরোচিত নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। এরপর শহীদদের লাশ আশপাশের বাগানে বা গর্তে পুঁতে রাখা হতো। স্বাধীনতার পর এই গুদাম ঘরের পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের পাশে কাদিরার বাড়ির বাগানে মানুষের অসংখ্য হাড়গোড় ও মাথার খুলি পাওয়া গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়।

Advertisement

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জানান, যুদ্ধকালীন সময়ে গ্রামগঞ্জে ঢুকে পড়ত পাকবাহিনী। মানুষের বাড়িঘর পুড়িয়ে জ্বালিয়ে দিতে। নিরস্ত্র মানুষদেরকে ধরে এনে বাগবাড়ীতে এনে চোখ বেঁধে নির্যাতন চালাত। রাজাকারদের তৈরিকৃত টর্চার সেলে মারধর করে জানতে চাইত মুক্তিবাহিনীর আস্তানা। একপর্যায়ে গুলি করে হত্যা করে পুঁতিয়ে রাখত। আজ সে টর্চার সেল কৃষি অধিদফতরের বিএডিসির গুদাম ঘর। গুদাম ঘরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণে মিনি জাদুঘর বানালে প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিচিত হবে বলে মনে করেন তিনি। 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তৎকালীন বাগানবাড়ির উত্তর দিকে কুরুয়ার চর নামক একটি স্থান ছিল। স্বাধীনতার পর এখানকার একটি গভীর গর্ত থেকে ৭০টি লাশের হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। এখানেই তাদের সমাধিস্থল করা হয়েছে। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে আরও ১০টি মানুষের মাথার খুলি পাওয়া যায়।

জেলা শহরের যেসব স্থানে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিগাঁথা আছে। ঐসব স্থানকে সংরক্ষণ করার দাবী জেলাবাসীর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!