ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সদর ইউপির বাণিজ্য বাজার থেকে নান্দাইল উপজেলা সদর পর্যন্ত নরসুন্দা নদীর দুধারে শতাধিক শিমুল গাছ রয়েছে। গাছগুলো ভরে গেছে ফুলে ফুলে। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এ যেন বিধাতার অপরুপ সৃষ্টি। যে কারো মন জুড়িয়ে যাবে এমন দৃশ্য দেখলে।
বর্তমানে এ গাছ কারণে-অকারণে কেটে ফেলছে মানুষ। অতীতে নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি, দিয়াশলাইয়ের কাঠি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে শিমুল গাছ।
.png)

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ মিয়া জানান, আগে গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এখন আর দেখা যায় না। একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে। তবুও এই গাছ বিলুপ্তির পথে। আগের যুগে শিমুল তুলা দিয়ে লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করা হতো। কিন্তু শিমুল তুলার মূল্য বৃদ্ধিতে গার্মেন্টের জুট কাপড় দিয়ে তৈরি তুলা, পাম্পের তোশক, বালিশসহ পঞ্চ, কাপাশ তুলা আজ শিমুল তুলার স্থান দখল করে নিয়েছে। তা ছাড়া শিমুল ফল ফেটে তুলা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। তাই শিমুল গাছকে একটি বাড়তি ঝামেলা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে গ্রাম বাংলার মানুষ।
বর্তমানে শিমুল তুলা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, আর গার্মেন্টের জুট দিয়ে তৈরি তুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাপাশ তুলা ২৫০ এবং পজ্ঞের তুলা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বন ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিকভাবে এখন দেশের কোথাও এই শিমুলগাছ বা তুলা চাষ করা হয় না। এটি প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে। যার কারণে শিমুলগাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এর তুলাটা খুবই ভালো এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হলে মানুষ আসল শিমুল গাছের বিভিন্ন অংশ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ছাল ঘা সারাতে সহায়তা করে। রক্ত আমাশয়ে দূর করে। ছাল ফোড়ার ওপর প্রলেপ দিলেও উপকার হয়।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ফাল্গুন মাসে দেখতে পাওয়া যায়। লাল, নীল, হলুদ, সোনালিসহ আরো উজ্জ্বল রঙের ফুল আমাদের মনকে রাঙিয়ে দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে জাতীয় পতাকার রক্তরাঙা বৃত্তের সঙ্গে রক্তরাঙা আকর্ষণীয় শিমুল ফুল বাঙালিকে আকর্ষিত করে।
সফর আলী নামে একজন জানান, সাধারণ মানুষ শিমুল তুলা সংগ্রহ করাকে অনেক ঝাঁমেলাপূর্ণ মনে। কারণ আপনি যে ভাবেই পাড়েন ফল পেকে আসলে চৈত্র বৈশাখ মাসে রোদে ফেটে বাতাসের সঙ্গে ভেসে যাবেই। শিমুল ফল পাকা অবস্থায় সময় বাঁশের লঙ্গী/ লাঠি দিয়ে কুটা বেঁধে টেনে টেনে পাড়তে হয়। কারণ এর ডাল খুব নরম গাছে উঠা খুবেই ঝুকিপূর্ণ কাজ।