ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেসব স্থান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভারসাম্যহীন পর্যটন ও কম প্রচারণার কারণে পিছিয়ে পড়ছে, এমন স্থান ও স্থাপনার সংরক্ষণে তহবিল জোগানো ও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছে ডাব্লিইউএমএফ৷
সংস্থার ওয়েবসাইটে জানানো হয়, এবারের তালিকা তৈরির জন্য ২২৫টিরও বেশি স্থানের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো থেকে যাচাই-বাছাই করে এবারের ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচ তৈরি করা হয়েছে। আর এ তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র স্থান মসজিদের শহর বাগেরহাট।
.png)

পনেরশ শতকে মুসলিম ধর্মপ্রচারক খান জাহান আলীর হাত ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে ভৈরব নদীর তীরে বাগেরহাট শহরের গোড়াপত্তন। এ শহরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- ষাট গম্বুজ মসজিদ, সিংরা মহজিদ, খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ, নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ ও রনবিজয়পুর মসজিদ। দিল্লীর তুঘলকি স্থাপত্যরীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এসব স্থাপনায় সমৃদ্ধ এ শহরের প্রাচীন নাম ছিল খলিফাতাবাদ।
ষোড়শ শতাব্দীতে খানজাহান আলীর আমলে নির্মিত ইসলামী স্থাপত্য রীতির মসজিদগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটকে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে ইউনেস্কো।
ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ড বলছে, এবারের তালিকায় অসাধারণ তাৎপর্যপূর্ণ যে ২৫টি ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে তা ২৪টি দেশ এবং ১২,০০০ বছরের ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করে।
এক বিবৃতিতে ডব্লিউএমএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী বেনেদিক্তে দে মঁৎলাউ বলেন, এ বছরের ওয়াচে দেখানো হয়েছে যে ঐতিহ্য সংক্ষণ একই সঙ্গে চলমান বিশ্বের সংকটগুলো মোকাবিলারও উদ্ভাবনী সমাধান দিতে পারে। এসব অনন্য সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সমৃদ্ধ স্থানগুলো সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর পাশে দাঁড়াতে আমরা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ঐহিত্য সমৃদ্ধ এসব স্থান সমাজের বৃহত্তর সংকটগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর স্বীকৃতির চাহিদা, প্রবেশাধিকার, অংশগ্রহণ, ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো সমাধানের পথ দেখাতে পারে।