গ্রেফতারকৃতরা হলো শেরপুর জেলার তেতুলতলা এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে শাজাহান আলী, জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানা এলাকার মিয়াপাড়া মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে রাজিব হোসেন ও মহানগরের পশ্চিম দিঘীরচালা এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আলামিন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান জানান, ২০২০ সালে ১৯ ডিসেম্বর গাজীপুর থেকে মো. শরিফুল ইসলাম তার শ^শুরবাড়ি বগুড়ার শেরপুরের দুবলাগাড়ি এলাকায় একদিনের জন্য বেড়াতে যায়। পরদিন রাতে রওনা হয়ে ভোর ৬টার দিকে গাজীপুরে পৌঁঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ২১ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে বাসন থানা পুলিশ দিঘিরচালা এলাকার সেবা হাসপাতালের পেছন থেকে শরিফুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে।
.png)
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর তদন্ত করে জানতে পারে গ্রেফতারকৃত আসামি শাজাহান, রাজিব ও আলামিন ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর রাত ১টা-দেড়টার দিকে ভাওয়াল কলেজের দিঘীর উত্তর পাড়ে বসে আড্ডা এবং গাঁজা সেবন করছিল। তখন তাদের একজন বলে তার হাতে টাকা পয়সা নেই, চলো সবাই মিলে ছিনতাই করি। পরে তারা ভাওয়াল কলেজের সামনের রাস্তায় এসে ২-৩টা ছিনতাই করে এবং ভোর অনুমান ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে একটি অটোযোগে শরিফুল ইসলাম গাজীপুর চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন।
তখন আসামিরা শরিফুল ইসলামকে বহনকারী অটোটি থামায় এবং তার মোবাইল ও টাকা-পয়সা নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন শরিফুল এক ছিনতাইকারীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার অপর দিক দিয়ে দৌড়ে সেবা হাসপাতালের দিকে চলে যায়। তখন আসামিরা তার পেছন পেছন দৌঁড়ে সেবা হাসপাতালের সামনে গিয়ে তাকে ধরে গামছা দিয়ে মুখ চেপে সেবা হাসপাতালের পেছনে নিয়া যায় এবং এ সময় শরিফুল মোবাইল ফোন ও টাকা দিতে না চাওয়ায় ছিনতাইকারীরা চাকু দিয়ে তার পিঠে ও পায়ে আঘাত করে মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
উল্লেখ্য, এ মামলার আসামিদের গত সোমবার (২১ মার্চ) গ্রেফতার করে পিবিআই।