মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আলমগীর মন্ডল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আলমগীরের বাড়ি সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দীঘলকান্তি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবদুল আবদুল জোব্বার মন্ডলের ছেলে।
.png)
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স। তিনি বলেন, এই মামলায় তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, দক্ষিণ দীঘলকান্তি গ্রামের জাহানারা বেগম, আবদুল জোব্বার মন্ডল ও জাকির মন্ডল।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে আলমগীর মন্ডলের সঙ্গে একই ইউনিয়নের উত্তর দীঘলকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলীর মোল্যার মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। তিনি এক সন্তানের মা। এদিকে বিয়ের পর থেকে নানা কারণ দেখিয়ে আলমগীর স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। ২০১৬ সালের ১৮ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমগীর তার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরদিন সুমি আক্তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
একই সালের ২১ জুন আলমগীর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি যান। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে তার বাড়িতে যান। একইদিন গভীর রাতে স্ত্রী সুমিকে কানসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে বেধড়ক মারধর করেন। ফলে ঘটনাস্থলেই তার মুত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শুক্কুর আলীর মোল্যা বাদী হয়ে পরদিন ২২ জুন সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আলমগীর মন্ডলসহ চারজনকে আসামি করা হয়।
অপর তিনজন আসামি হলেন, জাহানারা বেগম, আবদুল জোব্বার মন্ডল ও জাকির মন্ডল। মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আলমগীর মন্ডলকে এই সাজা দেয় আদালত।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আবু আলা সিদ্দিকুল ইসলাম রিপু।