জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে তুরাগ নদীর তীর ও আশপাশের জমির মাটি কেটে নেওয়ার ফলে হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকার বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে ওইসব এলাকার কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলনের আধাপাকা ও কাঁচা ধানই কাটতে শুরু করেছে।
ইসলামপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মালেক জানান, হঠাৎ করে তুরাগ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর জমিতে প্রতিদিনই পানি বেড়ে যাচ্ছে। নদী থেকে দ্রুত বেগে পানি বিলে উপচে পড়ছে। এর ফলে ওই এলাকার বোরো ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে পাচ্ছে।
.png)
মঙ্গলবার গাজীপুর সদরের বাসন, কড্ডা ও ইসলামপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওইসব এলাকার সাধারণ কৃষকের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। যে যেভাবে পারছেন তারা কাজের লোক জোগাড় করে তাদের জমির আধাপাকা ধানের ফসল কেটে খলায় তুলছেন।
বাসন ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সাদেক আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে রোরো ধানের চাষ করেছিলেন। আর ১০-১২ দিন গেলেই ধান কাটার উপযুক্ত হতো। এখন প্রতিমুহূর্তে পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে জমির ধান আধাপাকা অবস্থায় কাটা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে দুই একদিনের মধ্যে বাসন, ইসলামপুর, কড্ডা, মজলিশপুর এলাকার কোনো কৃষকই এক মুঠো ধান ঘরে তুলতে পারবে না।
কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছিলাম পানিতে ধান তলিয়ে গেছে। জমিতে ধান রোপন থেকে শুরু করে বীজ, সার, পানি ও মজুরি মিলে পুরো শ্রম এবং অর্থই জলে চলে গেছে। কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ আগে এমন ঘটনা কখনোই ঘটেনি। এ বছর অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা ভেকু দিয়ে নদীর তীরের মাটি কেটে অবাধে বিক্রি করে দিয়েছে। যার কারণে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানি সরাসরি জমিতে গিয়ে পড়ছে। এতে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত ৮০ ভাগ ধান পাকলে সে ধান কাটার উপযোগী হয়। এর কম হলে ভালো ধান পাওয়া যাবে না। তিনি তুরাগ নদীর পানি আশপাশের ধানি জমিতে ঢুকে কাঁচা ধান তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত আছেন জানিয়ে বলেন, তুরাগ তীরে বাঁধ না দিতে পারলে বন্যার ঐ পানি ঠেকানো সম্ভব হবে না।