ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১৫ হাজার টাকার জন্য খুন হন ইন্স্যুরেন্সকর্মী সৌরভী

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০২, ১ জুন ২০২২
১৫ হাজার টাকার জন্য খুন হন ইন্স্যুরেন্সকর্মী সৌরভী
নিহত ইন্স্যুরেন্সকর্মী সৌরভী মণ্ডল- ফাইল ছবি

বার বার ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ইন্স্যুরেন্সকর্মী সৌরভী মণ্ডলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিনও হত্যাকারী লাশের পাশে ঘোরাঘুরি করেন। ঘটনার চারদিন পর তিনি ভারতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

ঘটনার দীর্ঘ আড়াই বছর পর ক্লুলেস এ হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার করা হয়েছে ঘটনার একমাত্র মাস্টারমাইন্ড প্রণব কুমার মণ্ডলকে। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি। জবানবন্দি রেকর্ড করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক মো. আজহারুল ইসলাম।

বুধবার দুপুরে পিবিআই খুলনার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য রাখেন পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।

Advertisement

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড ঘটে ডুমুরিয়া উপজেলার পশ্চিম বলাবুনিয়া গ্রামে। নিহত সৌরভী মণ্ডল বলাবুনিয়া গ্রামের স্বপন মণ্ডলের স্ত্রী। তিনি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাঠকর্মী ছিলেন। সৌরভী সুদের ব্যবসা করতেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত প্রণব মণ্ডল বলাবুনিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, সৌরভী মণ্ডলের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নেন আসামি প্রণব মণ্ডল। একাধিকবার টাকা ফেরত দিতে চেয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করেন তিনি। সবশেষ ২০১৯ সালের ২ জুলাই সকালে সৌরভী মণ্ডল টাকা ফেরত চাইতে প্রণবের বাড়িতে যান। ঐ সময় টাকা না দিলে মামলা করার হুমকি দেন তিনি। ঐ রাতে প্রণব স্থানীয় অনুষ্ঠানে ছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে রাত পৌনে ১টার দিকে সৌরভী মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান। ঘুমন্ত সৌরভীকে ডেকে তুলে বলেন- টাকা দিতে তার আরো সময় লাগবে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রণব গলা টিপে ধরলে সৌরভীর মৃত্যু হয়। নড়াচড়া করতে না দেখে সৌরভীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে প্রণব পালিয়ে যান। কেউ যেন সন্দেহ না করে সেজন্য সকালে গ্রামের মানুষের সঙ্গে সৌরভীর লাশ দেখতে তাদের বাড়িতেও যান তিনি। হত্যার চারদিন পর পালিয়ে ভারতে চলে যান প্রণব।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ৭ জনকে আসামি করে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেন। আসামিরা সবাই নিহতের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ছিল। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, সৌরভী হত্যা মামলা ছিল ক্লুলেস। প্রথমে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়। এরপরই নিহতের সঙ্গে প্রণবের আর্থিক লেনদেন ও হত্যার পর থেকে গা-ঢাকা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রণব ডুমুরিয়ায় ফিরে আসেন। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। বিভিন্ন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৩০ মে রাতে ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রাম থেকে প্রণবকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই খুলনার পরিদর্শক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রণব হত্যাকাণ্ডে একাই জড়িত ছিলেন জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্রুত এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!